২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা ঘটেছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। — ফাইল চিত্র।
আগেই ঘোষণা হয়েছিল। সেই মতো পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ফাইল আবার খুলতে শুরু করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। কিছু মামলা ফের নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়াও চলছে। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার এমন কিছু মামলা আছে, যেগুলি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে, তেমন অনেক মামলার ফাইল আবার নতুন করে খুলল। অর্থাৎ, চূড়ান্ত রিপোর্ট কতটা যথাযথ, তা পুনরায় খতিয়ে দেখা শুরু হল।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরই ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার ফাইল আবার খোলা হবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনের দিন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেগের প্রশ্নে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তেরা ছাড়া পাবেন না! তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর যে সব নিরীহ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া, তাঁদের ফেরানো হবে। বিজেপি এবং রাজ্য সরকার সেই দায়িত্ব নেবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় যাঁরা অভিযুক্ত, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।
দিন কয়েক আগেই রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র তরফে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের পুরনো মামলাগুলি আইনিব্যবস্থার জন্য যথাযথ ভাবে পুনর্মূল্যায়ন (রিভিউ) করতে হবে এবং প্রয়োজনে পদক্ষেপ করতে হবে। সেই মতো এখনও পর্যন্ত কতগুলি মামলায় আবার নতুন অনুসন্ধান শুরু হল, তার হিসাব দেওয়া হল।
জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৪৫৮টি মামলায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও দায়ের হয়েছে ১৮১টি নতুন এফআইআর-ও। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পরে অর্ধশতাধিক মানুষ রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। প্রায় ২০০০টি ‘ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস’ সংক্রান্ত মামলা দায়ের হয়েছিল সে সময়। তার মধ্যে অনেক মামলারই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে। তবে নতুন করে ৫৯টি মামলার ফাইল খুলেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক মামলার ফাইল খোলা হবে সেই ইঙ্গিতও মিলেছে।
২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পরে রাজ্য জুড়ে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ খুন, ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাগুলিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তদন্তের নির্দেশই বহাল রাখে। ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের অন্য মামলাগুলির দায়িত্ব রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের হাতেই দিয়েছিল আদালত।