CISF

সিআইএসএফ বাহিনী রাখতে ‘দখল’ স্কুল ভবন, আদালতে কর্তৃপক্ষ

স্কুলের আইনজীবীর অভিযোগ, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও পদক্ষেপ করা হয়নি। স্কুলকে আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। তাঁর আর্জি, জওয়ানদের থাকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে রাজ্যকে নির্দেশ দিক কোর্ট।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তায় মোতায়েন সিআইএসএফ জওয়ানদের রাখতে দু’মাসের জন্য ট্যাংরায়চিনাদের একটি বেসরকারি স্কুল নিয়েছিল রাজ্য সরকার। অভিযোগ, ১৪ মাস কেটে গেলেও সেই স্কুলবাড়ি থেকে জওয়ানদের সরানো হয়নি।এর ফলে ওই স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, ‘‘বেআইনি ভাবে স্কুল দখল করে রেখেছে রাজ্য। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্কুল দখল করে রাখা যায় না।’’ প্রসঙ্গত, ওই স্কুলটি সামাজিক মেলামেশার জন্যও ব্যবহার করেন চিনা সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা।

স্কুলের আইনজীবীর অভিযোগ, একাধিক বার প্রশাসনকে জানানো হলেও পদক্ষেপ করা হয়নি। স্কুলকে আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। তাঁর আর্জি, জওয়ানদের থাকার বিকল্প ব্যবস্থা করতে রাজ্যকে নির্দেশ দিক কোর্ট।

রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, আর জি কর হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ওই স্কুলটি নিয়েছিল সরকার। স্কুল ভবনের পরিকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচও করেছে তারা। আইনজীবীর আরও দাবি, বিকল্প জায়গার খোঁজ চলছে। তবে, কাছাকা‌ছি কোনওব্যবস্থা করা যায়নি বলেই ওই স্কুলবাড়িতে জওয়ানদের রাখা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য ছ’মাস সময়ও চান রাজ্যের আইনজীবী। যদিও বিচারপতি রাওয়ের পাল্টা মন্তব্য, ‘‘আপনারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করছেন। সুপ্রিম কোর্ট বেসরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখতে বলেনি। রাজ্যের কাছে বিকল্প জায়গা নেই, এই যুক্তিও মানা যায় না।’’ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ ফেব্রুয়ারি।

আরও পড়ুন