মুস্তাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। (পিছনে) ইডেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার চেয়ারম্যান জয় শাহ নিজে নতুন সূচি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এখন প্রশ্ন, এর ফলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা আইসিসি-র আর্থিক ক্ষতি কতটা হবে, বা আদৌ কোনও ক্ষতি হবে কি না। পুরোটাই নির্ভর করছে আইসিসি-র সিদ্ধান্তের উপর। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি কি শেষ পর্যন্ত সত্যিই সরিয়ে নেওয়া হবে, না কি কোনও ভাবে অদলবদল করা হবে বা অন্য ম্যাচের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। এর উপরই নির্ভর করবে ভারতের কতটা ক্ষতি হবে।
বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি
গ্রুপ পর্বে কলকাতা ও মুম্বইয়ে বাংলাদেশের ৪টি ম্যাচ:
• ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা: বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭ ফেব্রুয়ারি), ইটালি (৯ ফেব্রুয়ারি) এবং ইংল্যান্ড (১৪ ফেব্রুয়ারি)।
• ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বই: বনাম নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)।
ইডেনে দর্শক ধরে ৬৩,০০০। ওয়াংখেড়ের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩৩,০০০। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৪টি ম্যাচে প্রায় ২,২২,০০০ টিকিটের বিষয়টি জড়িত। বাংলাদেশের ম্যাচগুলির টিকিটের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
বিসিসিআই-এর কত ক্ষতি হতে পারে
আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা আইসিসি বিজ়নেস কর্পোরেশনের। যেহেতু ভারতীয় বোর্ড কেবল বিশ্বকাপের আয়োজক, ফলে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ তারা পাবে না। সেই কারণে টিকিট বিক্রির ক্ষতি বোর্ডের গায়ে তেমন লাগবে না।
বিসিসিআই-এর মূল ক্ষতি হতে পারে ম্যাচ-ডে সারপ্লাস (উদ্বৃত্ত আয়), স্থানীয় স্পনসরশিপ এবং হসপিটালিটি ডিমান্ড (ভিআইপি বক্স) থেকে।
তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি
• পরিস্থিতি ১: যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কলকাতা ও মুম্বইয়ে অন্য কোনও ম্যাচ না দেওয়া হয়
সে ক্ষেত্রে টিকিট বিক্রি বাবদ সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ ৭ থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে (যদি ৬০-৯০% দর্শক উপস্থিতি এবং টিকিটের গড় দাম ৫০০-১,৫০০ টাকা ধরা হয়)।
• পরিস্থিতি ২: যদি বাংলাদেশের ম্যাচগুলি সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কলকাতা ও মুম্বইয়ে অন্য ম্যাচ দেওয়া হয়
এ ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমে যাবে। কারণ, টিকিট তখনও বিক্রি হবে। যদিও তা নির্ভর করবে কতটা আকর্ষণীয় ম্যাচ দেওয়া হবে, তার উপর। তবে বাংলাদেশ-ইটালি বা বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের থেকে বেশি আকর্ষণীয় ম্যাচ পাওয়া কঠিন হবে না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে যে কেন্দ্র থেকে ম্যাচ সরিয়ে ইডেন বা ওয়াংখেড়েতে দেওয়া হবে, সেই কেন্দ্রগুলি কতটা আপত্তি করবে, সেটিও দেখার বিষয়।
• পরিস্থিতি ৩: ভারত ও শ্রীলঙ্কার সূচির মধ্যে কেন্দ্র অদলবদল করা হয়
আইসিসি যদি কেবল কেন্দ্র বা তারিখ অদলবদল করে ভারতের ম্যাচের সংখ্যা ঠিক রাখে, তবে ক্ষতির পরিমাণ হবে নগণ্য। সে ক্ষেত্রে কেবল লজিস্টিকস এবং নতুন করে পরিকল্পনার খরচটুকুই হবে।