—প্রতীকী চিত্র।
শুধু পঠনপাঠনে চিঁড়ে ভিজবে না। সেই সঙ্গে গবেষণা এবং তার ফলিতপ্রয়োগ তথা পেশাগত পরিসরে সংযোগ সৃষ্টিই আগামীর দিশা বলে মেলে ধরলেন সেন্ট জ়েভিয়ার্স স্বশাসিত কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার দমিনিক সাভিয়ো। শুক্রবার ১৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এবং তার পরে এ কথা বলেন তিনি। কর্মসংস্থান এবং ক্লাসঘরের সঙ্গে শিল্প ক্ষেত্রের গাঁটছড়ায় সেন্ট জ়েভিয়ার্স নানা উদ্ভাবনীমূলক কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।
এর মধ্যে টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের সঙ্গে সমন্বয়ে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বিশেষ ভাবে বলেন সাভিয়ো। মলিকিউলার মেডিক্যাল বায়োলজিতে নতুন ডিপ্লোমা পাঠক্রমের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র পেলে কর্মোপযোগী মেডিক্যাল ফিজ়িক্সের শিক্ষাক্রম শুরু হবে বলে জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ। জৈবপ্রযুক্তি, রসায়ন, মাইক্রোবায়োলজি, তথ্যবিজ্ঞানেও (ডেটা সায়েন্স) সমন্বয়ের দরজা খোলার পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
২০২৭-’২৮ শিক্ষাবর্ষে সেন্ট জ়েভিয়ার্সে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্নাতকোত্তর পাঠের তোড়জোড় চলছে। যুগোপযোগী এই বিষয়ে আরও একাধিক বৈচিত্রপূর্ণ পাঠক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্যে কলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের এআই চর্চার পাঠও রয়েছে। অজয়নগরে সেন্ট জ়েভিয়ার্সের নির্মীয়মাণ শিক্ষাঙ্গনেও গণসংযোগ, গণমাধ্যম এবং মাল্টিমিডিয়া সংক্রান্ত পাঠের ‘মিডিয়া হাব’ গড়ে তোলা হবে বলে অধ্যক্ষ জানান। ওই শিক্ষাঙ্গনটিও শিল্প ক্ষেত্রে সংযোগের পথ দেখাবে বলে সেন্ট জ়েভিয়ার্স কর্তৃপক্ষের আশা।
জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনে চতুর্থ বর্ষের স্নাতক শিক্ষাক্রমে আগামী বছরই চতুর্থ বর্ষের পাঠ শুরু হবে। তার রূপরেখা নিয়ে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে ধন্দ রয়েছে। সেন্ট জ়েভিয়ার্স কর্তৃপক্ষ ওই চতুর্থ বর্ষে গবেষণা এবং গবেষণা পদ্ধতির অনুশীলনে জোর দেওয়ার পরিকল্পনা অনেকটা সেরে ফেলেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। সমাবর্তনের প্রধান অতিথি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এ দিন পঠনপাঠনে উৎকর্ষে সেন্ট জ়েভিয়ার্সের ধারাবাহিকতা এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ধারাবাহিক ভাবে এনআইআরএফ তালিকায় দেশের দশটি কলেজের মধ্যে সেন্ট জ়েভিয়ার্সের স্থান ধরে রাখার দিকটি মনে করান তিনি। স্নাতকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষাক্রমের জন্য বিভিন্ন কলেজ কত দূর তৈরি, তা নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও একটি সমীক্ষা শুরু করেছেন বলে এ দিন আশুতোষ জানান।
সমাবর্তনে সেন্ট জ়েভিয়ার্সের সর্বোত্তম উৎকর্ষ পুরস্কার ‘নিহিল উলত্রা’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে আইএসআইয়ের সদ্য প্রাক্তন অধিকর্তা তথা বিজ্ঞানী, গবেষক সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ১৪ জনকে পিএইচ ডি এবং স্নাতক, স্নাতকোত্তর, বিএড ইত্যাদিতে ২৪৬৫ জনকে এ দিন ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। রাঘবপুরের গ্রামীণ শিক্ষাঙ্গনে প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী এবং প্রধানত ছাত্রীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বের কথাও বলেন অধ্যক্ষ। সেন্ট জ়েভিয়ার্সের কর্মকাণ্ডে প্রাক্তনীদের উজ্জ্বল ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিতে বহুত্বের চর্চাও মেলে ধরেন তিনি। কলেজের পদার্থবিদ্যার দু’জন কৃতী ছাত্র রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ব্রহ্মচর্য ব্রত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানান অধ্যক্ষ।