রঙিন: পুজোয় শরৎচন্দ্রের চরিত্রের থিমে সাজছে যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুল। তারই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পড়ুয়ারা। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক।
কোথাও আঁকা হচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিভিন্ন নারী চরিত্র, কোথাও আবার নজরেমহারাষ্ট্রের চিত্রকলা। সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে স্কুলে স্কুলে প্রস্তুতি তুঙ্গে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, শিক্ষকেরা নানা কাজে সাহায্য করলেও এটি মূলত পড়ুয়াদের পুজো। তবে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজে অনেক শিক্ষকই স্কুলে নেই। যাঁরা স্কুলে আছেন, তাঁরাই পড়ানোর সঙ্গে পুজোর প্রস্তুতির কাজ দেখাশোনা করছেন।
যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার জানান, শরৎচন্দ্রচট্টোপাধ্যায়ের জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁদের থিম শরৎচন্দ্র। তাঁর নারী চরিত্রগুলি যে কতটা ব্যতিক্রমী ছিল, তা ফুটিয়ে তোলা হবে ক্যানভাসে। অমিত বলেন,‘‘আজকের পড়ুয়ারা গল্প-উপন্যাস পড়া থেকে অনেক দূরেচলে যাচ্ছে। শরৎচন্দ্রের জন্মের ১৫০ বছর পরেও তাঁর লেখা উপন্যাসগুলি এখনও কত প্রাসঙ্গিক, তাআজকের প্রজন্মকে জানানো দরকার।’’
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য জানান, তাঁদের স্কুলে বিভিন্ন পেশায়মেয়েদের সাফল্য তুলে ধরা হচ্ছে। থিমের নাম ‘লক্ষ্মী হয়ে আলো দাও, সরস্বতী হয়ে জয় করো বিশ্বকে’। পার্থপ্রতিম বলেন, ‘‘মেরিকম থেকে শুরু করে মাদার টেরিজা, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু— এঁরা সবাইশুধু তাঁদের জীবনে সফলই নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণাও। সেই সঙ্গে নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে না করার বার্তাও থাকছে।’’
বাঘা যতীন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শম্পাভট্টাচার্য জানান, তাঁদের স্কুল পুজোয় সেজে উঠছে মহারাষ্ট্রেরচিত্রকলায়। পুরনো সিডির উপরে সেগুলি আঁকছে ছাত্রীরাই। শিয়ালদহের টাকি বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক জানান, তাঁদের স্কুলে এ বার থিম ‘তিলোত্তমা কলকাতা’। পটচিত্রের মাধ্যমেকলকাতার নানা ছবি ফুটিয়ে তোলা হবে। স্বাগতা বলেন, ‘‘সারা বছর ধরে টুনি লাইট, হ্যালোজেন-সহনানা আলো কিনে রাখা হয়েছে। তাই পুজোর সময়ে অতিরিক্ত খরচ আর হয় না।’’
স্কুলে সরস্বতী পুজো হয় পড়ুয়াদের এবং শিক্ষকদের চাঁদার টাকায়। স্কুলের কম্পোজ়িট গ্রান্টের টাকা পুজোয় ব্যবহার করা হয় না। তবুও স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুজোয় যেন বিদ্যুতের অপচয় না হয়, সেটা দেখতে বলা হয়েছে পড়ুয়াদের। কারণ, বেশি বিল এলে তা স্কুলকেই মেটাতে হবে।
পুজোর শেষে শুধু ফুল আর কাগজ ছাড়া আর কিছু যাতে নষ্ট না হয়, তার দিকে খেয়াল রেখে মণ্ডপ সাজাচ্ছে ঠাকুরপুকুরের কলাগাছিয়া কৈলাস কামিনী উচ্চ বিদ্যালয় (উচ্চ মাধ্যমিক)। প্রধান শিক্ষিকা চিত্রিতা মজুমদার বলেন, ‘‘পুরনো টায়ার, জলের অকেজো ফিল্টার, খবরের কাগজ, পুরনো কাপড় দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে।’’