পথের দাবি: আর জি কর-কাণ্ডের ১৭ মাস পরেও মেলেনি ন্যায়বিচার। এই অভিযোগে সিবিআই দফতর অভিযান। বৃহস্পতিবার, নিউ টাউনে। ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য।
১৭ মাস অতিক্রান্ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আর জি করের চিকিৎসক-পড়ুয়াকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচার মেলেনি। দেওয়া হয়নি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও। এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে সিবিআই দফতর অভিযান করল ‘ভয়েজ় অব অভয়া, ভয়েজ় অব উইমেন’। তাতে যোগ দিলেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতোও।
অভিযান ঘিরে অবশ্য তৈরি হয়েছে বিতর্কও। এ দিন সকালে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা দাবি করেন, তাঁরাই প্রথমে এই অভিযানের ডাক দেন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘আমাদের ডাকা কর্মসূচিকে হাইজ্যাক করেছেন অনিকেতরা। তাই আমরা ওই অভিযানে যাব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ যদিও অনিকেতের দাবি, ‘‘আমি ওই সংগঠনের সদস্য নই। ন্যায়বিচারের আন্দোলনে যে যেখানে ডাকবেন, আমি যাব। তেমনই আমন্ত্রণ পেয়ে গিয়েছি।’’ এ দিনের অভিযানের আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক, চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্রের দাবি, তাঁদের সঙ্গে একযোগে সিবিআই দফতর অভিযানে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা সম্মতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘ওঁরা বাবা-মা হিসেবে একটি পোস্টার বানিয়ে আমাদের দেখিয়েছিলেন। আমরাও আমাদের পোস্টারে ওঁদের উপস্থিতির কথা লিখি। কিন্তু তার পরে কোন অজানা কারণে ওঁরা এমন করলেন, বলতে পারব না।’’
এ দিনের অভিযানে ‘সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম’, ‘মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার’, ‘নার্সেস ইউনিটি’-সহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যেরা ছিলেন। যদিও ‘জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’-এর কেউ এ দিন যোগ দেননি। অনিকেতের সঙ্গে সংগঠনগত ভাবে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বুধবারই ঘোষণা করেছে ফ্রন্ট। এ দিন দুপুরে নিউ টাউনের এনবিসিসি স্কোয়ার বিল্ডিংয়ের অদূরে জমায়েত করেন আন্দোলনকারীরা। বিভিন্ন পোস্টার হাতে তাঁরা মিছিল করে সিবিআই দফতরের সামনে যান। যদিও ওই বহুতলের সামনে আগে থেকে পুলিশ ব্যারিকেড করে রেখেছিল। সেখানেই মিছিল আটকায় পুলিশ। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। শেষে সিবিআইয়ের আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দিতে ঢোকেন আন্দোলনকারীদের পাঁচ প্রতিনিধি। স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে অনিকেত বলেন, সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট যে কোনও সময়ে দিতে পারেন বলে জানান সিবিআই আধিকারিক। কোন অজ্ঞাত কারণে তা আটকে, সেটা বললেন না।’’