Beleghata Flat Controversy

বেলেঘাটায় তৃণমূল নেতা রাজুর বহুতলে বুলডোজ়ার, ক্ষিপ্ত বাসিন্দাদের মার প্রোমোটারের ঘনিষ্ঠকে! গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী

তৃণমূল নেতা এবং প্রোমোটার রাজু নস্করের দু’টি বহুতলে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১-ই ইস্ট কুলিয়া রোডে ওই বহুতল। তার মধ্যে একটি নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে দিয়েছে পুরসভা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৪:৩৩

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘অবৈধ’ নির্মাণ নিয়ে কলকাতা পুরসভার নোটিস ঘিরে উত্তেজনা বেলেঘাটা এলাকায়। তৃণমূল নেতা তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের নির্মীয়মাণ বহুতলে বুলডোজ়ার চলেছে। যাঁরা ওই ফ্ল্যাটগুলি কিনেছেন, তাঁদের রোষে পড়েছেন রাজুর এক ঘনিষ্ঠ। সোমবার রাজুর অফিসের সামনে তর্কাতর্কি বাধে। পরিস্থিতি সামলাতে সেখানে যায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Advertisement

তৃণমূল নেতা এবং প্রোমোটার রাজুর দু’টি বহুতলে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১-ই ইস্ট কুলিয়া রোডে ওই বহুতল। দু’টি টাওয়ারে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট ছিল। এদের মধ্যে ১-ই ইস্ট কুলিয়া রোডের নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে ফেলেছে পুরসভা।

পুরসভার নোটিস মেলার পরে রাজুর প্রোমোটিং করা ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোমবার বেলেঘাটার ইস্ট কুলিয়া রোডে রাজুর অফিসেও যান কয়েক জন। সেই সময় স্কুটিতে এক যুবক যাচ্ছিলেন। তাঁকে দেখামাত্র ‘ওই যে রাজুর লোক’ বলে ঘিরে ধরেন কয়েক জন। চড়-থাপ্পড়ও মারা হয় তাঁকে। বেশ কিছু ক্ষণ তর্কাতর্কি চলে। পপি দে নামে এক অভিযোগকারিণী বলেন, ‘‘ওই লোকটা রাজু নস্করের খাস লোক। আমরা যখন রাজু নস্করের অফিসে গিয়েছিলাম, উনি বার বার ঘুরঘুর করছিলেন। পেশায় বাড়ির দালাল। তিনিও দশটা লোক নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। হুমকি দিতেন। আজ ওই লোকটাই এখান থেকে খবর নিয়ে রাজুকে দিচ্ছিলেন। তাই আমরা মেরেছি।’’ ওই মহিলা জানান, তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ এগ্রিমেন্ট পেপার পাননি। বিল্ডিং প্ল্যানই দেখতে পাননি। সোমবারই কাগজপত্র দেওয়া হবে বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজুর অফিসে গিয়ে দেখেন, তালাবন্ধ!

বেলেঘাটায় রাজু নস্করের ঘনিষ্ঠকে ঘিরে বিক্ষোভ।

বেলেঘাটায় রাজু নস্করের ঘনিষ্ঠকে ঘিরে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত।

জানা গিয়েছে, যাঁদের জমিতে ওই নির্মাণগুলি, তাঁরা দু’জনেই বয়স্কা এবং অসুস্থ। একজনের হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। দ্বিতীয় জন বিধবা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁরা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যে সব রোষ গিয়ে পড়ে রাজুর সঙ্গীর উপর। বিক্ষোভকারীদের কারও অভিযোগ, মোটা টাকা ব্যয় করে ফ্ল্যাট কেনার পরেও এত দিন নথিপত্র পাননি। কারও অভিযোগ, তাঁদের ঠকানো হয়েছে। সোমবার পুরসভার নোটিসের পর তালাবন্ধ রয়েছে রাজুর অফিস।

স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, যে আবাসনগুলোর জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে, আগেও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল পুরসভা। গত সেপ্টেম্বরে তৃণমূল সরকারের আমলে পুরসভা থেকে বলা হয়েছিল কাজ বন্ধ রাখতে। কিন্তু তৃণমূল নেতা রাজু বলেছিলেন, তিনি পুরো বিষয়টা ‘দেখে নেবেন’। বিশ্বাস করেছিলেন অনেকে। এখন টাকা এবং আশ্রয়, দুই-ই খোয়ানোর আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারীরা। দুপুরে বেলাঘাটা থানায় রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেলেঘাটার এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল রাজুর। সেই সময় তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন