Abhishek Banerjee's firm

আরও সময় দিন! অবৈধ নির্মাণ নিয়ে জবাব দিতে কলকাতা পুরসভার কাছে এ বার আবেদন করল অভিষেকের সংস্থা

যে সব সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে কলকাতা পুরসভা তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, তা তারা জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক। পর্যাপ্ত সময় পেলেই তারা যাবতীয় তথ্য কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেবে। জবাব দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের কাছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১১:১৬
Tmc MP Abhishek Banerjee\\\\\\\'s firm seeks time from the Kolkata Municipal Corporation to respond regarding illegal construction

পুরসভার থেকে সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

কলকাতা পুরসভার কাছে ১০ দিন সময় চাইল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা লিপ্‌‌স এন্ড বাউন্ডস। পুরসভা সূত্রে খবর শনিবার সন্ধ্যায় ওই সংস্থার তরফে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে, যে সব সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় কলকাতা পুরসভা তাদের কাছে জানতে চেয়েছে, তা তারা জানাতে প্রস্তুত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাদের কিছুটা সময় দেওয়া হোক। পর্যাপ্ত সময় পেলেই তারা যাবতীয় তথ্য কলকাতা পুরসভার হাতে তুলে দেবে। জবাব দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের কাছে।

Advertisement

শুক্রবার বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা হোক, তার পর উত্তর দেব।” শুক্রবার অভিষেকের এমন জবাবের পর শনিবার তাঁরই সংস্থা সময় চেয়ে পুরসভার কাছে আবেদন করায় তাঁর ‘অস্বস্তি’ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের সংস্থাকে সম্প্রতি পুরসভার একাধিক নোটিস পাঠিয়েছে। মূলত কলকাতার কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডে থাকা তাঁর এবং তাঁর সংস্থা “লিপ্‌‌স অ্যান্ড বাউন্ডস”-এর নামে থাকা সম্পত্তি নিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়। পুরসভা সূত্রে জানানো হয়, কলকাতা পুরসভার ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত নথি এবং অতিরিক্ত নির্মাণের অনুমতির কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথম দিকে দু’টি বাড়ি নিয়ে নোটিসের খবর প্রকাশ্যে এলেও পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, মোট ১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অভিষেকের আত্মীয়দের নামেও থাকা কিছু সম্পত্তি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়। বিরোধী শিবিরের দাবি, বেআইনি নির্মাণের তদন্ত হওয়া উচিত। অন্য দিকে, তৃণমূলের একাংশ বলছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, বিল্ডিং বিভাগের তরফে নিয়মমাফিক নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। অভিষেকের সংস্থা যে পুরসভার কাছে সময় চেয়ে আবেদন করেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছে বিল্ডিং বিভাগ। কলকাতা পুরসভার একটি সূত্র জানিয়েছে, নিয়মানুযায়ী কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য তাদের কাছে সময় চায়, তবে তা দেওয়াই রেওয়াজ। কিন্তু সে ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ করে দেয় কলকাতা পুরসভা। এ ক্ষেত্রে জানা যাচ্ছে, আপাতত অভিষেকের সংস্থাকে সময় দেওয়ার পক্ষপাতী কলকাতা পুরসভা। ইতিমধ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভা শহরের বেআইনি কাঠামো ভাঙার উপর জোর দিয়েছে। বহু ক্ষেত্রে বুলডোজ়ার ব্যবহার করে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজও শুরু করেছে তারা।

Advertisement
আরও পড়ুন