Abhishek-Kunal

অভিষেকের সঙ্গে কুণালকেও রবিবার ডাকল সিআইডি! সই-কাণ্ডে তৃণমূলের দুই নেতার বয়ান মেলাবে ভবানী ভবন?

বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। কয়েক দিন আগে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষেরও বয়ান নেওয়া হয়েছে একপ্রস্ত। এ বার একই দিনে ডাক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ২১:০৮
(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)।

সই-কাণ্ডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দ্বিতীয় বার তলব করেছে সিআইডি। রবিবার ওই একই দিনেই ভবানী ভবনে ডাকা হয়েছে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও। বৃহস্পতিবার অভিষেককে একদফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার পর শুক্রবার নোটিস দেওয়া হয়েছে কুণালকেও। অভিষেককে ডাকা হয়েছে রবিবার বেলা ১২টায়। কুণালকে যেতে বলা হয়েছে রবিবার বেলা আড়াইটেতে। শুক্রবার রাতে কুণাল তলবের বিষয়ে আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘হ্যাঁ আমাকে যেতে বলা হয়েছে। আমি নিজের হাতে চিঠি রিসিভ করেছি। আমি তদন্তে সমস্ত রকম সহযোহিতা করব।’’

Advertisement

সূত্রের খবর, কুণাল ছাড়াও বেশ কয়েক জন বিধায়কের সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেছেন সিআইডি আধিকারিকেরা। এর আগে সই-কাণ্ডে কুণালের বাড়ি গিয়ে বয়ান নিয়েছিল সিআইডি। তবে অভিষেক এবং কুণালকে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ডাকা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। সই নিয়ে অভিষেকের সঙ্গে কুণালের বয়ানের ফারাক তৈরি হলে পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া কী ভাবে চলবে সেটাও দেখার।

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তাঁকে একাধিক বার ডাকা হলেও তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। সিআইডির নোটিস নিয়ে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে জানায়, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। বলা হয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তবে সিআইডি এখনই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না। সেই নির্দেশের পর ভবানী ভবনে যান অভিষেক। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পরে তিনি ভবানী ভবন থেকে বার হন তিনি। ১৪ জুন, রবিবার তাঁকে আবার হাজির হতে বলেছেন তদন্তকারীরা। তার পর সোমবার আবার ইডি তলব করেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে।

প্রসঙ্গত, বিধানসভায় বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই এই সই-কাণ্ডের বিতর্কের শুরু। তৃণমূলের বেশ কয়েক জন বিধায়ক দাবি করেন, তাঁরা স্বাক্ষরই করেননি। কিন্তু চিঠিতে তাঁদের নাম রয়েছে। কারও কারও নাম আবার লেখা হয়েছে ব্লক লেটারে। চিঠিতে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার যায় সিআইডি-র হাতে।

ঘটনাক্রমে তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৯ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি তিনি স্পিকারের হাতে তুলে দিয়েছেন আগেই। তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হয়েছে ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী। তাঁরা দাবি করেছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। আর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা পরামর্শদাতা হিসাবে থাকার আবেদন জানান।

Advertisement
আরও পড়ুন