দমদমে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কমিউনিটি রান্নাঘরে অস্থায়ী উনুনে কাঠের জ্বালানি দিয়ে মিড-ডে মিলের রান্না। —নিজস্ব চিত্র।
গ্যাস-সঙ্কটের জেরে স্কুলে মিড-ডে মিলের জন্য গ্যাসের জোগান এখনও অপ্রতুল। কিন্তু তার জেরে পড়ুয়াদের পাতে মিড-ডে মিলের সরবরাহ যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য এ বার কমিউনিটি রান্নাঘরগুলিতে কাঠের চুল্লি ব্যবহারের পরামর্শ দিল সমগ্র শিক্ষা মিশন।
সমগ্র শিক্ষা মিশনের চেয়ারম্যান কার্তিক মান্না বলেন, ‘‘যে সব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে একাধিক স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহ করে, তাদের বলা হয়েছে গ্যাসের জোগান কম হলে কাঠের চুল্লি ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও একটা অসুবিধা হচ্ছে যে, সমস্ত কমিউনিটি কিচেনে কাঠের চুল্লিতে রান্না করার মতো জায়গা নেই। তবে যে সব রান্নাঘরে সেই জায়গা আছে, সেখানে গত দু’দিন ধরে কাঠের জ্বালানি দিয়েই রান্না হচ্ছে মিড-ডে মিলের। এখনও মিড-ডে মিলে একটা পদই রান্না করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে যে দিন ডিম থাকার কথা, সে দিন সেটাও দিতে হবে।’’
দমদম মেট্রো স্টেশনের কাছে পেয়ারাবাগানে বিশাল ডেকচিতে রান্না হচ্ছিল খিচুড়ি। দেখা গেল, অস্থায়ী উনুন তৈরি করে শুকনো কাঠের জ্বালানি ব্যবহার করে চলছে ওই রান্না। যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করছে, তার এক কর্ণধার নভোনীল রায়চৌধুরী বললেন, ‘‘কলকাতার ৫০টিরও বেশি স্কুলে আমাদের মিড-ডে মিল যায়। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ প্রাথমিক পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার পড়ুয়া আমাদের রান্না করা খাবার খায়। দৈনিক চার থেকে পাঁচটি বাণিজ্যিক গ্যাস আমাদের লাগে। এ দিকে আমাদের কাছে মজুত থাকা গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনও গ্যাস পাচ্ছি না, তাই কাঠের চুল্লিতে রান্না শুরু করেছি। মিড-ডে মিলে একটি পদ ও ডিমসেদ্ধ দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, তাঁদের কমিউনিটি রান্নাঘরের পিছনে এক জায়গায় অস্থায়ী উনুন বানিয়েই চলছে ওই রান্না। আশপাশে গাছ থাকায় শুকনো কাঠ জোগাড় করা ততটা কঠিন হয়নি। নভোনীল জানান, তাঁদের মিড-ডে মিল ছাড়া মা ক্যান্টিনের জন্যও রান্না হয়। তার জন্যও ভরসা সেই কাঠের জ্বালানি।
তবে কলকাতার অন্য একটি কমিউনিটি রান্নাঘরের কর্ণধার ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের এখানে কাঠের চুল্লিতে রান্না করার সুযোগ নেই। কারণ অত জায়গা নেই। আর জ্বালানির কাঠই বা পাব কোথায়? তাই গ্যাসই ব্যবহার করছি।
প্রতিদিন দু’টি করে গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছি। কিন্তু গতকাল সেটাও পাইনি। যেটুকু গ্যাস মজুত আছে, তাতে আর মাত্র এক দিন চলবে।’’
গ্যাসের বিভিন্ন ডিলারেরা জানাচ্ছেন, যে পরিমাণ বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ করার কথা, তা করা যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নগণ্য। তবে বিভিন্ন তেল সংস্থা সূত্রের খবর, সোমবার তেল সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা রাজ্যের খাদ্যসচিব-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে মিড-ডে মিল, স্কুল-কলেজ এবং হাসপাতালে যেন রান্নার জন্য বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগানে কোনও রকম ঘটতি না হয়, তা নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনা
হয়েছে। ডিলারেরা জানিয়েছে, এই অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন তাঁরা।