এসআইআরের কারণে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র দিতে হিমসিম খাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। প্রতীকি ছবি।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) পর্বে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের কপি সংগ্রহ এবং ভেরিফিকেশনের জন্য কলকাতা পুরসভায় আবেদনকারীর ঢল নেমেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতে গিয়ে পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের উপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনলাইন ও অফলাইন— দু’ভাবেই অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে পুরসভাকে।
পুরসভার তরফে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে ‘স্লট বুকিং’ করে অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের আবেদন নেওয়া হচ্ছে। মাসখানেক আগেও দিনে সর্বোচ্চ ১৫২টি স্লট বরাদ্দ থাকলেও, এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার পর সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৮০ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৭৫টি আবেদন শুধু হোয়াট্সঅ্যাপ স্লট বুকিংয়ের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি অফলাইনে, অর্থাৎ কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবন, বিভিন্ন বরো অফিস এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলিতেও বিপুল সংখ্যায় আবেদন জমা পড়ছে। সব মিলিয়ে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের কপি পেতে দিনে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি করে আবেদন আসছে। ফলে শংসাপত্র প্রদান ও রেকর্ড যাচাই করতে গিয়ে দফতরের কর্মীদের উপর কাজের চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
চাপ এখানেই শেষ নয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এসআইআর শুনানিতে জমা পড়া জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রগুলি আদৌ সঠিক কি না, তা যাচাই করতে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের (ডিইও) তরফে গুচ্ছ গুচ্ছ নথি পুরসভায় পাঠানো হচ্ছে ভেরিফিকেশনের জন্য। স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনে গড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি করে ভেরিফিকেশন আবেদন আসছে। কোনও কোনও দিনে সেই সংখ্যা বেড়ে ৮০০-তেও পৌঁছেছে।
এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, গত চার দিনে মোট দু’হাজারেরও বেশি জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ভেরিফিকেশনের জন্য এসেছে। প্রতিটি নথি আলাদা করে রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট ডিইও-দের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। এই বিপুল কাজের চাপে দফতরের স্বাভাবিক পরিষেবা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। তবু এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে বাড়তি কর্মী ও সময় দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কলকাতা পুরসভা।