CPIM-Congress

মুর্শিদাবাদে সমবায়ে জয়ী কংগ্রেস-বাম, ভোটে অশান্তিও

মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের মহারাজপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির পরিচালন কমিটির নির্বাচনে ৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৯টি আসনে জয়ী হলেন বাম-কংগ্রেসের প্রার্থীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৫ ০৫:০৫
কংগ্রেস ২৪টিতে এবং ১৫টিতে সিপিএম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

কংগ্রেস ২৪টিতে এবং ১৫টিতে সিপিএম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ওয়াকফ-প্রতিবাদকে উপলক্ষ করে সাম্প্রতিক অশান্তির পরে মুর্শিদাবাদে মেরুকরণের প্রবল চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি। পাল্লা দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মুর্শিদাবাদের দৌলতাবাদের মহারাজপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির পরিচালন কমিটির নির্বাচনে ৪৩টি আসনের মধ্যে ৩৯টি আসনে জয়ী হলেন বাম-কংগ্রেসের প্রার্থীরা। কংগ্রেস ২৪টিতে এবং ১৫টিতে সিপিএম প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল পেয়েছে চারটি। চলতি পরিস্থিতির নিরিখে বিধানসভা ভোটের আগে এই সাফল্যে উৎসাহিত বাম-কংগ্রেস শিবির।

সমবায় ভোট ঘিরে অবশ্য অশান্তি হয়েছে। পুলিশি নিরাপত্তা দিতে না পারায় মাসকয়েক আগে এই সমিতির নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছিল সমবায় দফতর। কংগ্রেসের তরফে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদনের পরে আদালতের নির্দেশেই রবিবার দৌলতাবাদ এনবিএস হাই স্কুলে ওই সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটির নির্বাচন হয়েছে। সকালে ওই বিদ্যালয়ের পাশে কংগ্রেসের শিবির ভেঙে দেওয়া, কংগ্রেস কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠি চালায়। তখন পুলিশের লাঠি এক তৃণমূল নেতা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেছেন, ‘‘গন্ডগোলের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে মামলা করে পদক্ষেপ করা হবে।’’

দলকে না-জানিয়ে বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এই ভোট করেছেন এবং তাঁকেই ‘দায়’ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের বক্তব্য, ‘‘দৌলতাবাদের সমবায় সমিতিতে যে নির্বাচন হচ্ছে, সেটা আমরা জানি না। ওখানে তৃণমূলের কোনও প্যানেল জমা পড়েছে কি না, সেটাও আমরা জানি না। আমাদের দলের ব্লক সভাপতিও কিছু জানেন না। যাঁরা সেখানে ভোট করেছেন, তাঁরা বলতে পারবেন। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে খোঁজ-খবর নেব।’’

সকাল থেকেই দৌলতাবাদে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের কাছে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক, কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের বহিরাগতদের হামলায় আমাদের জনাসাতেক নেতা-কর্মী জখম হয়েছেন। তার পরেও সাধারণ মানুষ, ভোটারেরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। যার জেরে ৩৯টি আসনে আমরা জয়ী হয়েছি।’’ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘‘মানুষের মনোভাব এটাই। সেই কারণেই মুর্শিদাবাদে গোলমাল বাধিয়ে মেরুকরণ করতে চায় তৃণমূল এবং বিজেপি। আর মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, লুট ঠেকিয়ে তাঁরা ভোট দিতে পারলে তৃণমূল হারবে।’’

আরও পড়ুন