মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
দুয়ারে ভোট। এই আবহে দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন, বৃহস্পতিবার থেকেই নেতা-কর্মীদের কার্যত নির্বাচনী লড়াই শুরু করার ডাক দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্রকে রক্ষার কথা বলে এবং কারও নাম না-করে ‘অপশক্তি’কে নিশানা করেছেন মমতা। আর ‘বাংলা-বিরোধী জমিদারি শক্তি’র কথা বলে সরব হয়েছেন অভিষেক। দু’জনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে বাংলা-বাঙালির শক্তির প্রসঙ্গও। তৃণমূলকেই ‘অপশক্তি’ বলে পাল্টা নিশানা করেছে বিজেপি।
তৃণমূলের ১৯৯৮-এ পথ চলা শুরুর কথা স্মরণ করে মমতা বলেছেন, “গণতান্ত্রিক দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য লড়াইয়ে অবিচল আমরা। কোনও রকম অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়। সব রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে।” পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সূত্রে অভিষেকও বলেছেন, “মা-মাটি-মানুষের সঙ্গে যত দিন আমরা দৃঢ় ভাবে যুক্ত থাকব, তত দিন কোনও ঔদ্ধত্যপূর্ণ, দমনমূলক শক্তি বাংলার সম্মিলিত সঙ্কল্পকে হারাতে পারবে না।” সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনা, কেন্দ্রীয় ‘বঞ্চনা’ এবং ভিন্-রাজ্যে বাংলাভাষীদের নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপিকে ‘বাংলা-বিরোধী জমিদার’ বলে বার বার উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির নাম না-করে বৃহস্পতিবারও অভিষেক বলেছেন, “বাংলার কোনও মানুষ যেন বাংলা-বিরোধী জমিদারি শক্তির হাতে হয়রান, অপমানিত, ভীত-সন্ত্রস্ত না-হন, তা নিশ্চিত করব।”
এই প্রেক্ষিতে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এটাই তৃণমূলের শেষ প্রতিষ্ঠা দিবস পালন। পরের বার থেকে তৃণমূল ভবনে প্রতিষ্ঠা দিবসের পতাকা তোলার অবস্থা থাকবে কি না, জানি না! বাংলার মানুষকে এই অপশক্তি, বাংলাদেশি, জামাতপন্থী শক্তিকে হারাতে হবে। মমতা ও তাঁর ভাইপো জামাতের হাতে খেলেন!” আর তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিতে দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘২০২৬ অনেক বড় লড়াই। এই লড়াইয়ে যদি লক্ষ মানুষকে, আমাদের, জেলে যেতে হয়, যাব। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এই কাজকর্ম মানব না! আমরা অনেক সময় বলি, ‘জুডিশিয়াল থ্রেট’ খুব ভয়ঙ্কর। এখানে নির্বাচন কমিশন হুমকি দিচ্ছে।’’
এরই মধ্যে আজ, শুক্রবার থেকেই পুরোদস্তুর ভোট-লড়াইয়ে নামছেন অভিষেক-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগ তুলে এবং ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ স্লোগানকে সামনে রেখে অভিষেকের রাজ্য জুড়ে প্রচার ও সমাবেশ শুরু হচ্ছে বারুইপুর থেকে। লোকসভা ভোটের আগে ব্রিগেড সমাবেশের ধাঁচে বারুইপুরে অভিষেকের সভা-মঞ্চের সঙ্গে র্যাম্পের ব্যবস্থাও থাকছে। বিজেপির বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা এবং তৃণমূল সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের রিপোর্ট নিয়ে জনসংযোগও শুরু করেছে তৃণমূল। প্রথম পর্যায়ে ১৮০০ জন বিশিষ্টদের কাছে পৌঁছতে ৩৮টি দল করা হয়েছে জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্বকে নিয়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, বুথ-ভিত্তিক জনসংযোগ, তথ্যচিত্র দেখানো, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচার চালাবে তৃণমূল।