ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি। বিয়ের তিন মাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছিলেন বাঁকুড়ার ভবানী মাল। খুশি হননি বাবা এবং সৎমা। ‘দখল করা ঘর’ থেকে মেয়েকে না-তুলতে পেরে তাঁকে খুনই করে ফেললেন জন্মদাতা! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামপুর গ্রামে। খুনের তদন্তে নেমে স্তম্ভিত পুলিশও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৩ দিন ধরে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ২২ বছরের ভবানীর। সম্প্রতি দিগশুলির জঙ্গলের ভিতর থেকে একটি দেহ উদ্ধার করে ওন্দা থানার পুলিশ। পরে জানা যায়, দেহটি ভবানীরই। তাঁর রহস্যমৃত্যুর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক কারণে খুন করা হয়েছে ভবানীকে। খুনি স্বয়ং তাঁর বাবা ঈশান মাল।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিকনা গ্রামে ভবানীর বিয়ে হয়েছিল বছরদুয়েক আগে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না-হওয়ায় বিয়ের মাসতিনেকের মধ্যে বাপের বাড়িতে ফিরে যান যুবতী। তার পর থেকে বাপের বাড়ির দু’টি ঘরের মধ্যে একটিতে থাকতেন তিনি। অন্য ঘরে চার ভাইবোন, বাবা এবং সৎমা থাকতেন। মেয়ে ‘ঘর দখল করে রেখেছে’, এমন অভিযোগ ছিল ৪৬ বছরের ঈশানের। এ নিয়ে কয়েক বার ঝগড়াও হয়েছে। তবে খাওয়া-পরার জন্য বাবার উপর নির্ভর করেননি ভবানী। বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করতেন।
প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে ভবানীকে তাঁরা দেখেননি। ২৭ ডিসেম্বর বাঁকুড়া সদর থানায় মেয়ের নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেন ভবানীর বাবা।
ভবানীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। এর মধ্যে গত ৩১ ডিসেম্বর ওন্দা থানার দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয় কয়েক জন এগিয়ে গিয়েছিলেন পরিত্যক্ত কুয়োর দিকে। কুয়োর জলে বস্তাবন্দি কিছু একটা ভাসতে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। পরে ওন্দা থানার পুলিশ গিয়ে কুয়ো থেকে বস্তাটি তোলে। বস্তার মুখ খুলে দেখা যায় পচাগলা এক যুবতীর দেহ। ঘটনাক্রমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, দেহটি নিখোঁজ ভবানীরই।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে মৃতার বাবা স্বীকার করেন যে, মেয়েকে খুন তিনিই করেছেন। ঈশান জানান, বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও প্রথম পক্ষের মেয়ে ভবানী একটি ঘর একা দখল করে থাকায় তাঁদের অসুবিধা হচ্ছিল। বার বার মেয়েকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মেয়ে রাজি হননি। তাই তাঁকে মেরে ফেলেছেন। পুলিশের কাছে তিনি স্বীকার করেন, কন্যাকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করার পর তাঁর দেহ বস্তাবন্দি করে জঙ্গলের মধ্যে কুয়োয় ফেলে দিয়েছিলেন। তার পরে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার গল্প ফেঁদে থানায় অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বস্তার ভিতরে মৃতদেহের পাশাপাশি ইট-পাথর ভরা ছিল। দেহ-সহ বস্তাটি যাতে কুয়োর জলে ডুবে থাকে, সেটাই ছিল উদ্দেশ্য। ভবানীর দেহ উদ্ধারের পর পরই নির্দিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে তারা। শুক্রবারই বাঁকুড়া জেলা আদালতে হাজির করানো হয় ধৃতকে। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’