—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ গিয়েছে বহু মতুয়ার। তাঁদের অনেকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) আবেদন করেও শংসাপত্র হাতে পাননি এখনও। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সিএএ-তে জমা পড়া আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দু’টি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও কমিটি কবে কাজ শুরু করবে, কবে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেবে, শংসাপত্র পেলেও আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে ফের ভোটার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ধন্দে প্রশাসনের একাংশও।
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বাসিন্দা রমেশ গায়েন নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন প্রায় সাত-আট মাস। ভেবেছিলেন, এসআইআর-এর আগে শংসাপত্র পাবেন। পাননি, নামও কাটা গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তিনি বললেন, ‘‘সাত-আট মাসে যে কাজ হল না, তা কমিটি গড়েও কত দ্রুত হবে, তা জানি না। এ বার ভোট দেওয়া যে হচ্ছে না, বুঝে গিয়েছি।’’ এই জেলারই গাইঘাটার বাসিন্দা যোগেশ বিশ্বাস মতুয়া-ভক্ত। তাঁর নাম কাটা গিয়েছে তালিকা থেকে। তবে তিনি সিএএ-তে আবেদন করেননি। বলেন, “যাঁরা আগে আবেদন করেছেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাননি! আগে সকলে পান, তার পরে আবেদন করব। তবে মনে হচ্ছে, এ যাত্রা আর ভোট দেওয়া হল না!”
প্রশাসন সূত্রের খবর, সিএএ-তে জমা পড়া আবেদনগুলি নিষ্পত্তির জন্য জেলা স্তরের কমিটিতে ডাক বিভাগ, কেন্দ্রীয় আইবি, জেলাশাসক বা তাঁর প্রতিনিধি-সদস্য থাকেন। এই কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি তুলনায় বেশি। দু’জন সম্মতি দিলেই ‘কোরাম’ হয়। জেলা স্তর থেকে অনুমোদিত আবেদনের নিষ্পত্তি করবে রাজ্য স্তরের কমিটি। সে কমিটিতেও বেশিরভাগই কেন্দ্রের প্রতিনিধি থাকেন। ফলে, সে কমিটিতেও ‘কোরাম’ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কেন্দ্রের নতুন প্রস্তাবিত কমিটিতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান সচিব বা অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদের কোনও আধিকারিককে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখতে বলা হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সচিব স্তরের আধিকারিক। ফলে, তাঁর থাকার কথা নয় ওই কমিটিতে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলা স্তর থেকে অনুমোদিত আবেদনপত্রে নবগঠিত কমিটিগুলি ছাড়পত্র দিলে, আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হবেন। সে তথ্য যাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। এর পরে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোটার হওয়ার আবেদন করতে পারেন নির্বাচন কমিশনের কাছে। স্বাভাবিক গতিতে কাজ চললে দিন সাতেক সময় লাগে এমন আবেদনের নিষ্পত্তিতে। ভোটের মনোনয়নের (দফাভিত্তিক ভাবে পৃথক হতে পারে) শেষ দিনের আগে পর্যন্ত নতুন নাম গ্রাহ্য হওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে সিএএ-র আবেদনগুলি কত দিনে নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার উপরে সব নির্ভর করছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক কর্তার আশঙ্কা, নতুন কমিটির দৌলতে সিএএ-তে আবেদনকারীরা যত দ্রুতই নাগরিকত্বের শংসাপত্র পান, নতুন আবেদন করে ভোটার-তালিকায় নাম তুলতে হয়তো এ বারের বিধানসভা ভোট পেরিয়ে যাবে।
‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের যদিও দাবি, “আবেদনকারীরা শীঘ্রই ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ পাবেন।” আবার তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ এবং আর এক ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুরের প্রশ্ন: “আগের কমিটিগুলি তা হলে কী করছিল! এত দিন কেন নাগরিকত্ব দেওয়া হল না!”