Asha Workers Detained

ট্রেন-বাস থেকে নামিয়ে বাধা আশা কর্মীদের

আশা কর্মীদের অভিযোগ, বুধবার পাঁশকুড়া, মেচেদা এবং কোলাঘাট স্টেশনে তাঁদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে। টেনে নামানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৩৪
পাঁশকুড়া স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়েছে আশা কর্মীদের (উপরে)। জেলা প্রশাসনিক ভহনের সামনে বিক্ষোভ।

পাঁশকুড়া স্টেশনে আটকে দেওয়া হয়েছে আশা কর্মীদের (উপরে)। জেলা প্রশাসনিক ভহনের সামনে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।

কোথাও তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হল না। আটকে দেওয়া হল স্টেশনে। আবার কোথাও ট্রেন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল পুলিশ। আটকে রাখা হল আশা কর্মীদের বাসও। নথি যাচাইয়ের নামে বাসের চালক ও খালাসিকে নিয়ে যাওয়া হল থানায়। অশান্তির আশঙ্কার অভিযোগ তুলে জেলাজুড়েই বুধবার ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করে আশাকর্মীদের আটকে রাখা হল থানায়।

আশাকর্মীদের কলকাতায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চেষ্টায় বুধবার দিনভর পুলিশ-প্রশাসন ত্রুটি রাখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিধানসভা ভোটের আগে তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান-উতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এ দিন নন্দীগ্রামে বলেন, ‘‘বর্বর সরকার আর ইতর পুলিশ না হলে মায়েদের উপরে এ রকম করতেন না। রাজ্যজুড়ে এটা হয়েছে,মানুষ দেখছেন।’’

কলকাতায় এ দিন স্বাস্থ্যভবন অভিযানে যোগ দিতে জেলার আশাকর্মীরা ট্রেনে, বাসে, গাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ‘আশান্তি সৃষ্টির চেষ্টার’ অভিযোগে বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ-প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন দে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে বিশেষ সূত্রে খবর ছিল, অনেকেই স্বাস্থ্যভবনের আশেপাশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বিশৃঙ্খলা করতে যাচ্ছিল, যা বিপজ্জনক হত। তাই আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা করতে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে। তাতে হয়তো কিছুটা দেরি হয়েছে। কিন্তু কোনও খারাপ আচরণ করা হয়নি। তা-ও অভিযোগ উঠলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’’ পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের জেলা সম্পাদিকা ইতি মাইতির অবশ্য নালিশ, ‘‘রাজ্য সরকার পুলিশ দিয়ে আমাদের উপরে অত্যাচার করেছে।’’ পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে আশাকর্মীরা এ দিন স্মারকলিপিও দেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) মানস মণ্ডলকে।

আশা কর্মীদের অভিযোগ, বুধবার পাঁশকুড়া, মেচেদা এবং কোলাঘাট স্টেশনে তাঁদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া হয়েছে। টেনে নামানো হয়েছে। স্টেশনে ধস্তাধস্তি করে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাঁশকুড়া ও মেচেদা স্টেশন থেকে প্রায় ৬০ জন আশাকর্মীকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে মেচেদায় পাঁচ, পাঁশকুড়ায় ১০ জনকে ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করা হয়। বাকিদের বিক্ষোভের জেরে জামিন দেওয়া হয়। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য , ‘‘স্টেশন চত্বরে আশা কর্মীদের স্লোগানে শান্তির বিঘ্ন ঘটছিল বলে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিন দেওয়া হয়।’’

সকালে ময়নার বলাইপণ্ডা থেকে বাসে রওনা দেওয়ার জন্য জমা হয়েছিলেন আশা কর্মীরা। অভিযোগ, বাস আটকে রেখে চালক ও খালাসিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ। ফলে আশা কর্মীরা তমলুক-ময়না সড়কের তিন মাথার মোড়ে অবরোধ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ গিয়ে সেই অবরোধ তুলে দেয়।

চণ্ডীপুর ব্লকের কর্মীরা যে বাস ভাড়া করেছিলেন, সেটির কর্মীদেরও থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেও আশা কর্মীরা ১১৬ বি জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। পরে তারাঁ নিমতৌড়িতে জেলাশাসকের দফতরের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন দুপুর থেকে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বিক্ষোভও দেখান।

আরও পড়ুন