ঝাড়গ্রামে দেওয়াল ধসে দুর্ঘটনা! জখম পরিবারের তিন জন। মৃত্যু হয়েছে এক জনের। —নিজস্ব চিত্র।
অবিরাম বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে যাওয়া দোতলা মাটির বাড়ির দেওয়াল ভেঙে মৃত্যু এক কলেজপড়ুয়ার। আহত অবস্থায় ওই পরিবারের তিন সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লকের শিলদা গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকজোড়া গ্রামের ঘটনা।
পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতার নাম পিঙ্কি দাস। বয়স মাত্র ১৯ বছর। তিনি শিলদা চন্দ্রশেখর কলেজের দ্বিতীয় সেমেস্টারের ছাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ছাত্রীর বাবা মৃণালকান্তি দাস, দাদা সুজিত দাস এবং ঠাকুমা শোভা দাস। তাঁদের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে শনিবার তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
দাস পরিবার থাকত টিনের ছাউনি দেওয়া দোতলা মাটির বাড়িতে। পাঁচ জনের পরিবার। পিঙ্কির দাদা সুজিত অন্ধ্রপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পরিবারের জন্য পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। দিন পনেরো হল বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। মাটি খুঁড়ে লোহার খাঁচা বসানো হয়েছে।
কিন্তু টানা বৃষ্টিতে কাঁচা বাড়ির একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার রাতে বাড়ির নিচতলার একটি ঘরে খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন পিঙ্কি, তাঁর দাদা এবং ঠাকুমা। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর মা-বাবা। গভীর রাতে আচমকা একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে। দেওয়ালের একটি অংশ ধসে পাশের ঘরেও পড়ে। তাতে জখম হন পিঙ্কির বাবা-ও।
রাতে বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে গ্রামবাসীদের। পিঙ্কির মা মামণি দাসের চিৎকারে তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। আহতদের দ্রুত বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা পিঙ্কিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার আহতদের দেখতে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজে যান ঝাড়গ্রাম বিধানসভার নির্দল প্রার্থী অশোক মাহাতো। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিনপুর-২ ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, প্রাকৃতিক কারণে দেওয়াল ভেঙে পড়ার প্রমাণ মিললে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। অন্য দিকে, শনিবার বিকেলেও ঝাড়গ্রামে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে।