Jajpur

জাজপুরে লাইনচ্যুত এনজেপিগামী এক্সপ্রেস ট্রেন, খড়্গপুর জিআরপির সহযোগিতায় শুরু আহত যাত্রীদের বাড়ি ফেরানোর কাজ

উদ্ধারকাজ শেষে তিনটি নতুন বগি লাগিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত চেন্নাই সেন্ট্রাল-নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেসই রাতেই পৌঁছোয় খড়্গপুরের হিজলি স্টেশনে। আহত যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল রেল পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০১:২৪
আহতদের সঙ্গে কথা বলছেন রেল পুলিশ আধিকারিকেরা।

আহতদের সঙ্গে কথা বলছেন রেল পুলিশ আধিকারিকেরা। — নিজস্ব চিত্র।

বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার জাজপুর জেলার জাখাপুরা স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় চেন্নাই সেন্ট্রাল-নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেসের দু’টি অসংরক্ষিত ও একটি এসি কামরা। তিনটি কামরাতে প্রায় চারশো যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে দু’টি অসংরক্ষিত কামরায় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যাই ছিল বেশি। চেন্নাই থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। দুর্ঘটনায় কমবেশি আহত হন বেশির ভাগ যাত্রীই। উদ্ধারকাজ শেষে তিনটি নতুন বগি লাগিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত চেন্নাই সেন্ট্রাল-নিউ জলপাইগুড়ি এক্সপ্রেসই রাতেই পৌঁছোয় খড়্গপুরের হিজলি স্টেশনে। আহত যাত্রীদের সহযোগিতা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল রেল পুলিশ। হিজলি স্টেশনে ওই ট্রেন পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের হাতে পানীয় জলের বোতল ও শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয় খড়্গপুর জিআরপি ও আরপিএফ-এর তরফে। বাচ্চাদের দেওয়া হয় চকলেটও। বনগাঁর দুই গুরুতর আহত মহিলা যাত্রীকে ট্রেন থেকে নামানো হয়। উপস্থিত ছিলেন এসআরপি (খড়্গপুর) দেবশ্রী সান্যাল-সহ জিআরপি ও আরপিএফের অন্যান্য আধিকারিক।

Advertisement

দেবশ্রী বলেন, ‘‘অনেকেই আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই মহিলা যাত্রীর আঘাত একটু বেশি হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসার পরে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা আমরাই করব। ওঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।’’

চেন্নাই, বিজয়ওয়াড়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী। যে দু’টি অসংরক্ষিত কামরা লাইনচ্যুত হয়, তাতে থাকা শতাধিক যাত্রী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। সকালে কেউ ঘুমোচ্ছিলেন আবার কেউ ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই ঘটে দুর্ঘটনা। আতঙ্কিত হয়ে যাত্রীরা চিৎকার, হুড়োহুড়ি শুরু করেন। সকলেই বুঝতে পারেন ইঞ্জিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে লাইন থেকে ছিটকে গিয়েছে বগি। যাত্রীরা নামার জন্য মরিয়া চেষ্টা করতে থাকেন। একে অপরের উপরে উঠে পড়েন। আতঙ্কে অনেকে লাফও দিয়ে দেন। নামতে গিয়ে অনেকে আহত হন। পা, হাত-সহ কোমরে চোট পান যাত্রীরা।

বনগাঁর বাসিন্দা মুনমুন বাউড়ি, কলি বাগদি বিজয়ওয়াড়া থেকে ফিরছিলেন। সেখানে তাঁরা রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন। দুর্ঘটনার ফলে পায়ে ও কোমরে গুরুতর চোট পান দু’জন। বৃহস্পতিবার রাতে হিজলি স্টেশনে তাঁদের নামানো হয়। জিআরপি-র তরফে তাঁদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। মুনমুন বলেন, ‘‘পায়ে, কোমরে গুরুতর চোট পেয়েছি। তবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি।’’ মালদহের শেখ রিজওয়ান বলেন, ‘‘কী ভাবে দুর্ঘটনা ঘটল বুঝতে পারিনি। তবে কোনও মতে প্রাণরক্ষা হয়েছে।’’

রেল সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন