বেহাল কপালকুণ্ডলা মন্দির। — নিজস্ব চিত্র।
সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তী ছিল শুক্রবার। কলেজ স্ট্রিটে সাহিত্যিকের বাসভবনের অনুষ্ঠানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা, ‘বন্দে মাতরম্’ গানের স্মৃতিতে তৈরি হবে সংগ্রহশালা। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে অনাদরে পড়ে রয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত একাধিক স্থান।
বঙ্কিমের বিখ্যাত উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’র ভাবনার উৎপত্তি হয়েছিল কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লক এলাকার যে মন্দির থেকে, সেটির জীর্ণ দশা। বিগ্রহও নেই। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে এগরার নেগুয়ায় যে ডাকবাংলোয় বঙ্কিমচন্দ্র এক সময় থেকেছেন, সেটিও ভগ্নপ্রায়। এ দিন কলকাতার রবীন্দ্রসদনে বঙ্কিম স্মৃতি-তর্পণের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু নিজে এই দুই স্থানের উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘বাল্যকালে পালকুণ্ডলা মন্দির, নেগুয়ায় বঙ্কিমের কর্মক্ষেত্র থেকেই এই মহান মানুষের কথা জানতে জানতে বড় হয়েছি।’’
২০১১ সালে কাঁথির দরিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা মন্দির সংরক্ষণের ভার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২৬ লক্ষ টাকা খরচে সেজে উঠেছিল মন্দির। তখনই প্রাচীন কালীমূর্তি সরানো হয়। ২০১৩ সালে সংস্কার শেষেও সেই মূর্তি আর ফেরানো হয়নি বলে অভিযোগ। এ দিকে, সংস্কারের বছর ঘুরতে না ঘুরতে ছাদ থেকে জল পড়া শুরু হয়। খসতে থাকে পলেস্তারা। অদূরে আরেকটি মন্দিরে এখন এলাকাবাসীর উদ্যোগে মাটির কালীপ্রতিমা এনে পুজো হচ্ছে। মন্দির রক্ষণাবক্ষেণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভবেশচন্দ্র জানার দাবি, ‘‘জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও লাভ হয়নি।’’
কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন অবিভক্ত মেদিনীপুরে ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। নেগুয়া মহকুমা দফতরে ১৮৬০ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। প্রায় দু’বছর সেই দায়িত্বে ছিলেন। তখন মহকুমা অফিসের অদূরে ডাকবাংলোটি ব্যবহার করতেন বঙ্কিমচন্দ্র। বর্তমান এগরা শহরে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিধন্য সেই বাড়িটিও মাটিতে মিশতে বসেছে। ভোট-প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা স্থানীয় বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী স্থানটি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখনও কোনও তোড়জোড় হয়নি। আঞ্চলিক গবেষক শান্তিপদ নন্দের মতে, ‘‘স্মৃতিগুলির সংরক্ষণ দরুরি। না হলে ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাবে।’’
তৃণমূল আমলে অবহেলায় পড়ে থাকা কলেজ স্ট্রিটে বঙ্কিমের মূর্তির হাল তারা সরকারে এসেই ফিরিয়েছে বলে এ দিন সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুরেও বঙ্কিম-স্মৃতির স্থানগুলি সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নজরে সব রয়েছে। কপালকুণ্ডলা মন্দির থেকে নেগুয়া, বঙ্কিমবাবুর স্মৃতি যেখানে রয়েছে, ধীরে ধীরে সবেরই উন্নয়ন হবে।’’