Jagannath Chattapaddhay

ইতিহাসে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ নয়, নিদান মন্ত্রীর

দীর্ঘ বক্তৃতায় জগন্নাথের দাবি, নানা ঘটনার অভিঘাতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায়ের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভার বাংলা ভাগের পথই কংগ্রেস পর্যন্ত গ্রহণ করতে বাধ‍্য হয়, যার পরিণতিতে আজকের পশ্চিমবঙ্গ ভারতভুক্ত হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৬:৪২
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

অখণ্ড বাংলা ভেঙে পশ্চিমবঙ্গ গঠন নিয়ে বিজেপির যা মত, সেটাই এখন কার্যত গোটা বাংলার মত বলে দাবি করলেন রাজ‍্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, পয়লা বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন হতে পারে না। ঢাকার শোভাযাত্রার সংস্কৃতি আলাদা। ২০ জুন, ১৯৪৭-এর ঘটনাক্রমই এ রাজ‍্যের প্রকৃত ইতিহাস মেলে ধরে বলে মন্ত্রীর দাবি। আজ, শনিবার রাজ‍্য সরকার ঘোষিত 'পশ্চিমবঙ্গ দিবস'-এর প্রাক্কালে শুক্রবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

দীর্ঘ বক্তৃতায় জগন্নাথের দাবি, নানা ঘটনার অভিঘাতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায়ের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভার বাংলা ভাগের পথই কংগ্রেস পর্যন্ত গ্রহণ করতে বাধ‍্য হয়, যার পরিণতিতে আজকের পশ্চিমবঙ্গ ভারতভুক্ত হয়। অনুষ্ঠানে কলকাতা বিশ্ববিদ‍্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও পশ্চিমবঙ্গ গঠনে শ‍্যামাপ্রসাদের ভূমিকার কথা বলেছেন। সেই কথার সূত্র ধরেই উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর মন্তব‍্য, “মানুষ এটাই শুনতে চাইছে। আগে যা বিজেপিওয়ালারা বলতেন, সেটাই এখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও বলছেন।” পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গড়ার জন‍্য ১৯৪৭-এর এপ্রিলে তারকেশ্বরে শ‍্যামাপ্রসাদ, নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের সম্মেলন থেকে বঙ্গ বিভাজনের পক্ষে আইনসভার ভোটাভুটিতে কার কী অবস্থান তা উল্লেখ করে জগন্নাথের মন্তব‍্য, “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অভ‍্যাস ত‍্যাগ করুন। মাছের কাঁটা বাছুন। এটাই বাস্তবতা।” উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী পরে ব‍্যাখ‍্যা দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে নতুন বাংলায় ইতিহাসের কোনও 'অস্বস্তির বয়ান' উপেক্ষিত হবে না। আট দশক কার্যত বিস্মৃত শ‍্যামাপ্রসাদের অবদান নিয়ে চর্চা হবে। মন্ত্রীর অবশ‍্য দাবি, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ‍্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবেন না। তাঁর কথায়, “সরকার চায় শ‍্যামাপ্রসাদ নিয়ে চর্চা হোক। ডান, বাম সবাই চর্চা করুক। উচ্চশিক্ষায় বিতর্ক স্বাস্থ‍্যের লক্ষণ।”

বাঙালি এত দিন তার নিজের ইতিহাস ভুলে ছিল এবং এটা ভুল শুধরানোর সময় (কোর্স কারেকশন) বলে মন্ত্রী যে ভাবে তাঁর বক্তৃতায় দাবি করেছেন, তাতে ইতিহাস নিয়ে কোন মতটি রাজ‍্য সরকারের কাছে প্রাধান‍্য পাবে তা জলের মতো পরিষ্কার বলে মনে করছেন শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ইতিহাসের অধ্যাপক বলেন, “অবশ‍্যই ইতিহাসে বহু স্বর স্বাগত। কিন্তু আট দশক আগের ঘটনাবলি নিয়ে কাউকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। ইতিহাসকে সমকালীন রাজনীতিতে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব‍্যবহার নিয়েও সতর্কতা দরকার।”

আরও পড়ুন