Child Murder Case

তিন বছরের কন্যাসন্তানকে ‘খুন’ করে আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের! আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে, শোরগোল নদিয়ায়

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। বাড়িতে তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে একাই থাকতেন তার মা। শুক্রবার সকালে দীর্ঘ ক্ষণ কেটে গেলেও ওই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২১

— প্রতীকী চিত্র।

নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্প নোটিফায়েড পুর এলাকা। অভিযোগ, তিন বছরের শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর নিজে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন মা। স্থানীয় বাসিন্দারা দরজা ভেঙে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর তিন বছরের শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত মা। গোটা ঘটনাটির তদন্ত করছে রানাঘাট পুলিশ। শুক্রবার সকালে কুপার্স ক্যাম্পের ছ’নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। বাড়িতে তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে একাই থাকতেন তার মা। শুক্রবার সকালে দীর্ঘ ক্ষণ কেটে গেলেও ওই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়াশব্দ না-পাওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে। এর পর প্রতিবেশীরা জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই আঁতকে ওঠেন। দেখা যায়, ঘরের মেঝের উপর মা ও মেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন এবং ঘরের সিলিং থেকে একটি ওড়না ঝুলছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই দরজা ভেঙে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করার পর তিন বছরের শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মহিলার আশঙ্কাজনক অবস্থা। তাঁর চিকিৎসা চলছে। খবর দেওয়া হয় রানাঘাট থানায়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মা তাঁর সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে সম্ভবত ফাঁসের ওড়নাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় তিনি মেঝেতে পড়ে যান এবং প্রাণে বেঁচে যান। কী কারণে এই পথ বেছে নিলেন ওই মহিলা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্বামী দূরে থাকায় এবং একা হাতে সন্তান মানুষ করতে গিয়ে কোনও কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কোনও পারিবারিক বিবাদ বা আর্থিক অনটন এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এই ঘটনায় কুপার্স ক্যাম্প এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ওই মহিলা সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন