Bulldozer in Murshidabad

‘অন্যের জমি দখল করে’ গড়া তৃণমূল যুবনেতার বাগানবাড়িতে বুলডোজ়ার চালাল পুরসভা, প্রধানের পদ ছাড়লেন স্ত্রী

অভিযোগ, বহরমপুর শহরের ৩ নম্বর সৈয়দাবাদ বাঙালপাড়া এলাকায় অন্যের জমি দখল করে একটি বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন পাপাই। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ১৫:০৩
Bulldozer

বহরমপুরে চলল বুলডোজ়ার। —নিজস্ব চিত্র।

স্বামী তৃণমূলের যুব নেতা। স্ত্রী তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। অন্যের জমি জবরদখল করে বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরির অভিযোগ ছিল ওই দম্পতির বিরুদ্ধে। শনিবার মুর্শিদাবাদের ববহরমপুরে সেই বাগানবাড়ি বুলডোজ়ার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল স্থানীয় প্রশাসন। অন্য দিকে, শনিবারই প্রধানের পদ থেকে তৃণমূলের নেত্রী ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর। তবে তাঁর স্বামী খোঁজ মিলছে না।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বহরমপুর শহর যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন পাপাই ঘোষ। তাঁর স্ত্রী সুষমা ঘোষ ছিলেন মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। অভিযোগ, বহরমপুর শহরের ৩ নম্বর সৈয়দাবাদ বাঙালপাড়া এলাকায় অন্যের জমি দখল করে একটি বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন পাপাই। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়। তখন থেকে তিনি গা-ঢাকা দেন। তাঁর স্ত্রীকেও এতদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি। শনিবার ওই ‘বিতর্কিত জমি’তে একটি বুলডোজ়ার পাঠায় পুরসভা। সেখানকার নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, ভাঙচুর এবং বিতর্কের আবহে শনিবার বহরমপুর বিডিও অফিসে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুষমা। তবে সুষমার এই ইস্তফা বহরমপুর ব্লকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডল ছাড়াও দৌলতাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ভাকুড়ি-১ পঞ্চায়েতের প্রধানেরাও ইস্তফা দিয়েছেন। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন মণীন্দ্রনগরের প্রধানও।

যদিও এই উচ্ছেদ অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই দাবি করেছে অভিযুক্ত যুবনেতার পরিবার। পাপাইয়ের মা চম্পা ঘোষের দাবি, “আমরা ওই জমিটি নিয়ম মেনেই কিনেছিলাম। আমাদের কাছে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ছেলে রাজনীতি করে বলেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এই কাজ করা হচ্ছে।”

তবে পুরসভা সূত্রে খবর, ওই জায়গাটির মালিক হাওড়া জেলার বাসিন্দা। দীর্ঘ দিন জায়গাটি খালি পড়েছিল। একদা কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরবোর্ড ওই ফাঁকা জায়গায় একটি শিশুউদ্যান গড়ে তুলেছিল। বাকি অংশ ফাঁকাই পড়ে ছিল। পরে সেই জায়গার নকল দলিল বানিয়ে পাপাই সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে এলাকাবাসী কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থে মামলাও হয়। মামলার রায় পাপাইয়ের বিরুদ্ধে যায়। তার পরেই পুরসভার এই পদক্ষেপ। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা হিরু হালদারের কটাক্ষ, ‘‘এটা তো ছোট একটা ব্যাপার। এই তৃণমূল যুব সভাপতির নেতৃত্বে একাধিক সরকারি জায়গা বিক্রি হয়েছে। ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পার্ক এবং সুইমিং পুল অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এখন সেখানে গোডাউন হয়েছে। আমি চাই, সেই পার্ক-ও পুনরুদ্ধার হোক।’

Advertisement
আরও পড়ুন