মামনি মণ্ডল। নিজস্ব চিত্র
ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত রাখলেন বহরমপুরের মাজদিয়ার বাসিন্দা মামনি মণ্ডল। স্বামীর দেহ বুথের বাইরে অ্যাম্বুল্যান্সে রেখে তিনি ভোট দিলেন পছন্দের প্রার্থীকে।
মামনির স্বামী বাবলু মণ্ডলের (৫৮) মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছিল। ১৫ দিন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরে গত ২৩ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। ওইদিন বিকেলে স্বামীর দেহ অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে বহরমপুরে ফেরেন তৃণমূলের কট্টর সমর্থক মামনি। মাজদিয়ার বাড়িতে যাওয়ার আগে গোরাবাজারের ১৪৪ নম্বর ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থামেন ওই মহিলা। রাস্তার ধারে দাঁড় করান অ্যাম্বুল্যান্স। তারপর মামনি যান বুথের ভিতরে। তাঁকে দেখে ভোটকর্মীরা দ্রুত ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। রবিবার মামনি বলেন, ‘‘সব জানার পর পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমার ভোটের ব্যবস্থা করা হয়।’’ এখানে না থেমে মামনি বলেন, ‘‘রাজ্যে দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং দাদা (বহরমপুরের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়) সর্বদা আমাদের পাশে থাকেন। আমরাও তাঁদের ভালবাসি, তাঁদের পাশে আছি। এ বারের ভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভোটও যাতে নষ্ট না হয়, সেই কারণে নিজের এমন শোকের মধ্যেও ভোট দিতে গিয়েছিলাম। স্বামীর দেহ বাইরে রেখে বুথে ঢুকতে কষ্ট হচ্ছিল। তবু গিয়েছি।’’ মামনির দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক। তিনিও সে দিন ভোট দেন বলে মামনি জানিয়েছেন। এ দিকে, ঘটনার কথা কয়েক দিন পরে জানকে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাড়ুগোপাল। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি শুনে আমি একই সঙ্গে মর্মাহত এবং অভিভূত হয়ে গিয়েছি। এমন ভালবাসা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে দেখাও করব।’’
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বহরমপুর। সে বার লোকসভা নির্বাচনের দিন নিজের ছেলের দেহ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রেখে ভোট দিতে গিয়েছিলেন রেণুকা মাড্ডি নামে বহরমপুরের এক মহিলা। অধীর চৌধুরীকে ভোট দিতে তিনি বুথে গিয়েছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে অধীর সেই মহিলার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। ওই মহিলা ভাইফোঁটায় অধীরকেফোঁটাও দিয়েছেন।