বিক্রির জন্য সবুজ ও গেরুয়া আবির জমা হয়েছে। নবদ্বীপে। নিজস্ব চিত্র
রাজ্যে ভোট পর্ব শেষ হতে না হতেই আবিরের তুমুল কেনাবেচা শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতার পাইকারি বাজার থেকে নবদ্বীপ বড়বাজারের রং-আবির ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততায় অকাল বসন্তের ইঙ্গিত। বস্তা-বস্তা বিক্রি হচ্ছে গেরুয়া ও সবুজ রঙা আবির। পাইকারেরা জানাচ্ছেন, আবিরের অর্ডার তাঁরা ভোটের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই পাচ্ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই বাড়তে শুরু করেছে বরাতের পরিমাণ। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে রংবদল ঘটেছে চাহিদার! পাইকারি খুচরো সব ব্যবসায়ীরাই জানাচ্ছেন, সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে গেরুয়া বা কমলা আবিরের চাহিদা। ছবিটা কলকাতা থেকে নবদ্বীপ সর্বত্র একই রকম।
নবদ্বীপের পাইকারি ব্যবসায়ী চঞ্চল দেবনাথ গোটা নদিয়া জেলার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন বাজারে আবির সরবরাহ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে তার কাছ থেকে করিমপুর, তেহট্ট, পলাশিপাড়া চাপড়া, কৃষ্ণনগর এবং বর্ধমানের দুই পূর্বস্থলী, নাদনঘাট, পারুলিয়া প্রভৃতি এলাকা থেকে হাজার বস্তারও বেশি আবিরের বরাত এসেছে। হাতে এখনও ক’দিন রয়েছে। ফোনের বিরাম নেই। ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছে, আবিরের বিক্রিও এ বার ভোটদানের মতো নজিরবিহীন হবে। সোমবারের দুপুরের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট রঙের আবির বাজারে না-ও মিলতে পারে। সে ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে দেড়গুণ।
চঞ্চল বলেন, “এখনও ১০ কেজির অ্যারারুট আবিরের বস্তা ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারের যে প্রবণতা, তাতে শেষ পর্যন্ত ওই বস্তার দাম বেড়ে ১২০০ টাকা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।” কেননা, ফল প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরে খুব একটা আবিরের বিক্রি আর হবে না। সেই লোকসান পুষিয়ে নিতেই দাম বৃদ্ধি, জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শিমুরালির অর্ঘ্য ঘোষ বলেন, “আমাদের এখানে এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এবারে এখনও পর্যন্ত যা বিক্রি হয়েছে, তার ৭০ ভাগই গেরুয়া আবির। বাকি ৩০ ভাগ সবুজ।” তিনি জানিয়েছেন, বস্তা ৮০০-৯০০ টাকার মধ্যে এখনও বিক্রি হচ্ছে। তবে এই দাম থাকবে না। লাল আবিরের বিক্রি প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য। “ওটা কেবলমাত্রদোলেই বিক্রি হয়।”
চাকদহ সেন্ট্রাল ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য রাজু দে বলেন, “আমরা চিরকাল দোলের জন্যই আবির মজুত করতাম। ভোটের জন্য আলাদা করে আবির বিক্রির কথা আগে কখনও ভাবিনি। কিন্তু এ বার তিন-চার দিন আগে থেকেই আবিরের অর্ডার এসেছে। সবই কমলা আবির। এখনও পর্যন্ত সবুজ আবিরের কথা কেউ বলেনি।” তিনি জানিয়েছেন, খুব ভাল মানের আবির প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবিরের ব্যতিক্রমী বাজারে বৃহস্পতিবার পলাশিপাড়া থেকে ২০টা কমলা, ১০টা সবুজ আবিরের বস্তা নিয়ে গিয়েছেন খুচরো বিক্রেতারা। চঞ্চল দেবনাথের কাছে চাপড়া থেকে প্রথমে ১০০ বস্তা সবুজ আবিরের বরাত এসেছিল। পরে সেটা পালটে গিয়েছে ৫০টা কমলা, ২০টা সবুজ আবিরের বস্তা হয়। পলাশি থেকে এসেছে ৫০টা কমলা আবিরের অর্ডার। কৃষ্ণনগর থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০ বস্তা করে কমলা এবং সবুজ আবিরের বরাত এসেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবির প্রমাণ মিলেছে রাজনৈতিক দলগুলির কথাতেও। নবদ্বীপ শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি বুধবার রাতেই তিন বস্তা আবিরের অর্ডার দিয়ে রেখেছি।” অন্য দিকে, বিজেপির মিডিয়া প্রমুখ আনন্দ দাস বলেন, “বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের কার্যকর্তারা আবির সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে শুনছি, কমলা আবির নাকি এখনই পাওয়া যাচ্ছে না।”