দুর্ঘটনার পরে উত্তপ্ত এলাকা। বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। —নিজস্ব ছবি।
রাজ্যের মন্ত্রীর কনভয়ের পাইলট কারের ধাক্কায় গুরুতর জখম হল চার বছরের এক শিশু। শনিবার তা নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের থানার কাশীপুর গ্রাম। রাস্তা অবরোধ করে দীর্ঘ ক্ষণ বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়েরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
শনিবার দুপুরে রেজিনগরের একটি মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কাশীপুর মিলম সঙ্ঘ ক্লাবের সামনে মন্ত্রীর কনভয়ের একটি পাইলট কার চার বছরের আলামিন শেখকে ধাক্কা মারে। শিশুটি জখম হয়। দুর্ঘটনার পরে এক পুলিশকর্মী গাড়ি থেকে নেমেছিলেন। কিন্তু ওই গাড়ির চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যান।
তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই পুলিশকর্মীকে আটকে রেখে রাস্তা অবরোধ শুরু হয়। এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘‘চোখের সামনে বাচ্চাটাকে পিষে দিয়ে গাড়িটা পালিয়ে গেল! মন্ত্রী একবার গাড়ি থেকে নেমে দেখারও প্রয়োজন মনে করলেন না!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা চেয়েছিলাম মন্ত্রী নিজে এসে কথা বলুন। কিন্তু তা হয়নি।’’ শুধু তা-ই নয়, এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাঁরা প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে আসে। বলপ্রয়োগ করে অবরোধ তুলে দেয়।
জখম শিশুটিকে বেলডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার শারীরিক পরিস্থিতি দেখে সেখানকার চিকিৎসক মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানেই আলামিনের সিটি স্ক্যান হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, একটি ‘অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা হয়েছে।’’ বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ‘‘আচমকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই নাবালক রাস্তায় চলে আসায় বিপত্তি ঘটে। তবে চালকের তৎপরতায় তার প্রাণরক্ষা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমস্ত রকম তদারকি করছে পুলিশ -প্রশাসন।” যদিও মন্ত্রীর ‘নিস্পৃহতা’ এবং আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার বড় অংশ।