—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সরকার গঠনও হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতে মুর্শিদাবাদে বাম শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হল। রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত সিপিএম প্রার্থী আবুল হাসনাত নিজের দলেরই রাজ্য কমিটির সদস্য সোমনাথ সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনে দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
সেই চিঠিতে নির্বাচনী তহবিলের টাকা নয়ছয় করা থেকে শুরু করে বিরোধী দলের প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রঘুনাথগঞ্জ কেন্দ্র থেকে ফের জয়ী হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী আখরুজ্জামান। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেসের নাসির শেখ। চতুর্থ স্থানে শেষ করেছেন সিপিএম প্রার্থী আবুল হাসনাত। পরাজিত প্রার্থী হাসনাতের দাবি, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ভোটের ঠিক দু-চার দিন আগে রঘুনাথগঞ্জের চেনা রাজনৈতিক সমীকরণ যেন রাতারাতি বদলে যায়। দলের সাংগঠনিক শক্তির তুলনায় তাঁর প্রাপ্ত ভোট এতটাই কম যে, এর পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র দেখছেন তিনি।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে দেওয়া ওই চিঠিতে হাসনাতের অভিযোগ, ভোটের খরচ বাবদ তিনি সোমনাথ সিংহ রায়কে নগদ ১৯ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই খরচের কোনও সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। শুধু আর্থিক অনিয়মই নয়, জঙ্গিপুর বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন এবং রঘুনাথগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী নাসির শেখের সঙ্গে সোমনাথবাবু হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন বলে দাবি তাঁর। এই সমস্ত অভিযোগের সপক্ষে তাঁর কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন পরাজিত বাম প্রার্থী।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সিপিএম নেতা সোমনাথ সিংহ রায়। তিনি বলেন, “দলীয় স্তরে বিভ্রান্তি এবং গণ্ডগোল পাকানোর জন্যই এখন এই ধরনের অবান্তর কথা বলা হচ্ছে। উনি যে অঞ্চলে নিজে ভোট প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে সিপিএম মাত্র ১১০০ ভোট পেয়েছে। এমনকি নিজের খাসতালুক হাতিবান্ধার ১৭৫ নম্বর বুথেও উনি বিরোধীদের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।”
তিনি আরও বলেন, “হাসনাত সাহেব নিজেই একসময় এই কংগ্রেস প্রার্থী নাসির শেখের হাত ধরে রাজনীতি করেছেন। আজ তিনি আমার সঙ্গে নাসিরের যোগাযোগের তথ্য খুঁজছেন, এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না।’’