— প্রতীকী চিত্র।
ঝড়বৃষ্টি চলছে মুর্শিদাবাদে। দুর্যোগের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারালেন তিন জন। বজ্রাঘাতে আহতও হয়েছেন কয়েক জন। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া, ভরতপুর এবং নওদায় তিন পৃথক ঘটনায় মৃত্যু তিন জনের। অন্য দিকে, দুর্যোগের কারণে রানাঘাট-শিয়ালদহ শাখায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। প্রায় দু’ঘণ্টা পরিষেবা ব্যাহত থাকার পর ট্রেন চলাচল চালু হয় রানাঘাট-শিয়ালদহ শাখায়।
জানা গিয়েছে, বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার খিদিরপুর বালুর মাঠপাড়া এলাকা প্রৌঢ় রায়েচ শেখ। সোমবার বিকেলে খিদিরপুরের মাঠে চাষের কাজে গিয়েছিলেন তিনি। আচমকাই ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আটকে পড়েন। শুধু তিনি একা নন, মাঠে কাজ করছিলেন আরও দু’জন। বজ্রাঘাতে তিন জনই আহত হন। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি রায়েচকে। একই পরিণতি হয়েছে নওদার এক বৃদ্ধের। পাটের জমিতে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরেও বজ্রঘাতে এক মহিলার মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতার নাম বিলকিস বেগম। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেলে আচমকা আবহাওয়া খারাপ হতে দেখে তড়িঘড়ি মাঠ থেকে গবাদিপশুদের বাড়ি ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে মাঠের মাঝেই বজ্রাঘাতের কবলে পড়েন তিনি। মৃতার স্বামী শেরআলি শেখ জানান, বজ্রপাতের চোটেই মাঠের মধ্যে অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন বিলকিস। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতার পাঁচ বছরের এক সন্তান রয়েছে। অন্য দিকে, সোমবার দুপুরে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের সাক্ষী রইল জিয়াগঞ্জ। জিয়াগঞ্জ ফুলতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে সদরঘাট যাওয়ার মুখ্য রাস্তায় একটি কয়েকশো বছরের পুরনো বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
ঝড়বৃষ্টির কারণে রানাঘাট-শিয়ালদহ শাখায় শিমুরালিতে ট্রেনের ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ এই শাখায় বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোন রেলকর্মীরা। শুরু হয় মেরামতির কাজ।