TMC Leader's Son Arrest

তৃণমূল নেতা-নেত্রী বাবা-মায়ের নাম ভাঙিয়ে তোলা আদায়ের অভিযোগ, কলকাতায় গ্রেফতার বাঁকুড়ার যুবক

অভিযোগকারীর দাবি, বাবা-মায়ের রাজনৈতিক পরিচয় এবং পদকে কাজে লাগিয়ে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি ঠিকাদারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছেন এক যুবক। রবিবার রাতে বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে তালড্যাংরা থানার পুলিশ কলকাতায় গিয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১৬:১৮
Bankura Arrest Case

ধৃত অনিন্দ্য রায়। —নিজস্ব চিত্র।

মাসের পর মাস ঠিকাদারদের ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতির পুত্র। তালড্যাংরা থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Advertisement

রবিবার রাতে বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা থেকে জনৈক অনিন্দ্য রায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, অনিন্দ্য বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় এবং তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ের পুত্র। ধৃতকে সোমবার খাতড়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

বাঁকুড়ার তালড্যাংরার শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা তথা সরকারি ঠিকাদার শান্তনু মণ্ডল থানায় হাজির হয়ে লিখিত ভাবে অনিন্দ্যের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অনিন্দ্য এবং তাঁর দলবলকে তোলা বাবদ ৩৯ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য হন। পরে তোলা হিসাবে আরও টাকা দাবি করেছিলেন। তবে তিনি আর অর্থ দিতে অস্বীকার করেন। তার পর ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়েছেন।

অভিযোগকারীর দাবি, বাবা-মায়ের রাজনৈতিক পরিচয় এবং পদকে কাজে লাগিয়ে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি ঠিকাদারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছেন অনিন্দ্য। রবিবার রাতে বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে তালড্যাংরা থানার পুলিশ কলকাতায় গিয়েছিল। সেখান থেকেই অনিন্দ্য গ্রেফতার হয়েছেন।

ধৃতের আইনজীবী চঞ্চল রায় বলেন, ‘‘অভিযুক্তর মা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি। বাবা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি। স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক কারণে এই অভিযোগ হয়েছে বলে আমরা আদালতকে জানিয়েছি। অভিযোগকারী ঠিকাদার তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, এত দিন তিনি ভয়ের কারণে অভিযোগ জানাতে পারেননি। আমাদের বক্তব্য, রাজ্যে পালাবদলের আগে অভিযোগ জানাতে যদি ওই ঠিকাদার ভয় পেয়ে থাকেন তা হলে এখনও তিনি কোনও ভয়ের কারণেই এই অভিযোগ করছেন কি না, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন