Shantipur TMC Councillor

স্যান্ডো গেঞ্জি-লুঙ্গি পরিহিত তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীকে বেহাল রাস্তায় হাঁটিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ! উদ্ধারে গেল পুলিশ

শান্তিপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মূল রাস্তাটির অনেক দিন ধরে বেহাল দশা। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পাইপ লাইনে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছোবে। রাস্তাও ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৪:৪০
Shantipur TMC Councillor

তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীকে রাস্তায় হাঁটিয়ে বিক্ষোভ শান্তিপুরে। —নিজস্ব চিত্র।

বর্ষা নামলেই রাস্তায় বার হওয়া দায়। বারবার জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনের কাছে গিয়েও লাভ হয়নি। বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পুষ্প দাস এবং তাঁর স্বামীকে প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা হাঁটালেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। চিৎকার-চেঁচামেচি, বিক্ষোভ এমন পরিস্থিতিতে এমন পৌঁছোয় যে, পুলিশ গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করেছে। যদিও কাউন্সিলর এবং তাঁর স্বামীকে ঘিরে অনবরত ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, শান্তিপুর পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মূল রাস্তাটির অনেক দিন ধরে বেহাল দশা। ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পাইপ লাইনে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছোবে। রাস্তাও ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু কোথায় কী! অভিযোগ, জল তো পৌঁছোয়নি, জলের প্রকল্পের জন্য রাস্তা খোঁড়ার পর আর বোজানোও হয়নি। আর এ নিয়ে কাউন্সিলর বা তাঁর স্বামীকে বলে বলে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। স্থানীয় কাউন্সিলর নাকি দায় এড়িয়ে যান। পরে ফোন করলেও আর ধরতেন না।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা একজোট হয়ে কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে চড়াও হন এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কাউন্সিলর পুষ্প এবং তাঁর স্বামী সত্যনারায়ণ বাড়ি থেকে বেরোতেই তাঁদের হাত ধরে টেনে ওই বেহাল রাস্তায় হাঁটতে বলেন বিক্ষোভকারীরা। স্যান্ডো গেঞ্জি আর লুঙ্গি পরা অবস্থায় সত্যনারায়ণের অভিযোগ, তাঁকে শার্ট পরার সময় দেওয়া হয়নি। স্বামী-স্ত্রীকে প্রায় ৫ কিলোমিটার হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছে। পরে পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষোভ নিয়ে সত্যনারায়ণের বক্তব্য, ‘‘স্ত্রীর হয়ে ওয়ার্ডের কাজের নজরদারি আমিই বেশি করেছি। সেই কারণে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে আমাকেই টার্গেট করেছেন। আমি একটা সময় গৃহশিক্ষকতা করতাম। আমার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের বাড়ির সামনে দিয়ে এই পোশাকে এ ভাবে ঘোরানোয় আমি অপমানিত, মানসিক ভাবে আঘাত পেয়েছি।’’ তাঁর দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যাঁরা বিক্ষোভ করছেন, তাঁরা ওই ওয়ার্ডের সাধারণ বাসিন্দা নন, তাঁরা বিজেপির লোকজন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বহিরাগতেরা। যদিও বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের মুখে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

এলাকায় নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন