Tamanna Murder Case

শুভেন্দুর কাছে ‘বিচার’ চাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তমন্না খুনে গ্রেফতার আরও দুই! মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন মা সাবিনা

ধৃতেরা হলেন সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, তমন্না-খুনে ওই অভিযুক্তেরা অনেক দিন ধরেই নজরে ছিলেন। কিন্তু গোপন ডেরায় আত্মগোপন করে থাকায় তাঁদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছিল না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১০:৪৯
Two arrested for the Tamanna murder within hours of meeting with Suvendu Adhikari

(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সাবিনা ইয়াসমিন (ডান দিকে)। (পিছনে) তমন্না খাতুন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের খুনে ‘বিচার’ চেয়েছিলেন নদিয়ার কালীগঞ্জের তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তার পর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশি তৎপরতায় গ্রেফতার হলেন ওই খুনে ফেরার দুই অভিযুক্ত। এর ফলে এই মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

Advertisement

মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদে তাঁদের ডেরায় হানা দেয় কালীগঞ্জ থানার পুলিশ। সেখান থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় কালীগঞ্জে। বুধবার স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ।

গ্রেফতারির খবরে খুশি সাবিনা। তাঁর কথায়, ‘‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই বলছিলাম, অপরাধীরা লুকিয়ে নেই—পুলিশ ওদের লুকিয়ে রেখেছে। এর নেপথ্যে তৃণমূল নেতাদের পূর্ণ সমর্থন ছিল। প্রশাসনই অপরাধীদের আড়াল করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত হয়েছিলাম, তবে এত দ্রুত পুলিশ পদক্ষেপ করবে, তা ভাবতে পারিনি। আশা করছি বাকিরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে। প্রশাসনিক প্রধানের এ রকম তৎপরতা দীর্ঘ দিন রাজ্যের মানুষ দেখেনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা সত্যি সত্যিই প্রশংসা করার মতো। আশা করছি তমন্না বিচার পাবে।’’

মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বক্তৃতা করতে গিয়ে তমন্নার বিচারের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। দাবি করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর। অধিবেশনের পরে সাবিনার সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। সেই বৈঠকে ছিলেন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানও। বৈঠক সেরে বেরিয়ে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সুবিচারের আশ্বাস পেয়েছেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্‌জেলা থেকে গ্রেফতার এফআইআরে নাম থাকা দু’জন।

২০২৫ সালে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের উল্লাসে ছোট্ট তমন্নার উপর বোমা নিক্ষেপ করে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, এমনটাই অভিযোগ। ওই উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন তৃণমূলের আলিফা আহমেদ। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছিল তমন্নার মাকে। মঙ্গলবারের অধিবেশনে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল আলিফাকে।

Advertisement
আরও পড়ুন