(বাঁ দিকে) কালীগঞ্জ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় মৃত তমন্না খাতুনের মা, ডোমকলের সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (ডান দিকে)। মঙ্গলবার বিধানসভায়। —নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভায় মঙ্গলবার এক তাৎপর্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তমন্নার মা, সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তমন্নার মৃত্যুর ঘটনার বিচার ও অন্যান্য একাধিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বক্তৃতা করতে গিয়ে তমন্না এবং অভয়ার বিচার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার এই ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে তিনি জানান, তমন্নার পরিবারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে এবং তাঁদের বক্তব্য তিনি সরাসরি শুনতে চান।
এর কিছু ক্ষণ পরেই বিধানসভার অধিবেশন শেষে কক্ষ থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজের ঘরে যান। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কক্ষে পৌঁছোনোর পর বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে করিডর দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন তমন্নার মা, সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর এবং সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী। পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়।
বৈঠকে তমন্নার মা তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার সুনিশ্চিত করার দাবি জানান। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখবেন এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শুধু তমন্নার পরিবারের প্রতিনিধিরাই নন, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন আমতার রহস্যমৃত্যু হওয়া ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবাও। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। ঘটনাচক্রে, ২০২৫ সালে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের উল্লাসে ছোট্ট তমন্নার উপর বোমা নিক্ষেপ করে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, এমনটাই অভিযোগ। ওই উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন তৃণমূলের আলিফা আহমেদ। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জয়ী হয়েছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছিল তমন্নার মাকেই। বিধানসভার অধিবেশনে তাঁকেও তমন্নার মৃত্যু নিয়ে গঞ্জনা শুনতে হয়।
অন্য দিকে, বৈঠকে উপস্থিত মিনাক্ষী নির্বাচন চলাকালীন এবং বিগত কয়েক বছরে নিহত বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় প্রাণ হারানো বিভিন্ন কমরেডের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ জানান। বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির অগ্রগতিতে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, সে দিকে নজর থাকছে।