Murshidabad Arrest Case

অন্যের নামে সিম তুলে হোয়াট্‌সঅ্যাপ ইনস্টল, ওটিপি যেত পাকিস্তান! রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেফতার মুর্শিদাবাদের দুই যুবক

গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুহাব শেখকে পাকড়াও করেছিল পুলিশ। তাঁর বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। পাক-যোগের তথ্য মেলে। জুহাবকে জেরা করে শনিবার সুমন শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুমনের বাড়ি বহরমপুরে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৯

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার দুই যুবক। দু’জনকেই পাকড়াও করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। তাঁদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল এবং বেশ কয়েকটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

Advertisement

গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা জুহাব শেখকে পাকড়াও করেছিল পুলিশ। তাঁর বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। পাক-যোগের তথ্য মেলে। জুহাবকে জেরা করে শনিবার সুমন শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুমনের বাড়ি বহরমপুরে। লেদ কারখানায় কাজ করেন তিনি। তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃত দু’জনেই সিম কার্ড বিক্রেতা। অভিযোগ, দু’জনই ভারতীয় সিম কার্ডের ওটিপি পাকিস্তানে পাচার করতেন। ওই সিমগুলো যাঁরা এ দেশে মোবাইলে ব্যবহার করেন, তাঁদের হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি নিয়ন্ত্রিত হয় পাকিস্তান থেকে।

তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ধৃত দুই ব্যক্তি প্রায়শই এ রাজ্যের সাধারণ মানুষের নথি ব্যবহার করে সিম কার্ড তুলতেন। সেই নম্বরগুলি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। নম্বর ভেরিফাইয়ের জন্য যে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দেওয়া হত, সেগুলো পাকিস্তানের ‘হ্যান্ডলার’দের পাঠিয়ে দিতেন অভিযুক্তেরা। তদন্তে উঠে এসেছে, অন্তত সাত বার এ ভাবেই ওটিপি ‘পাচার’ করেছেন তাঁরা। বিনিময়ে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে মোটা অঙ্কের টাকা।

পাক গোয়েন্দারা সংশ্লিষ্ট হোয়াট্‌সঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্যতালাশের চেষ্টা করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ভাবে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথি পাচার বা ফাঁস হয়েছে কি না, ওই চক্রে আর কে কে রয়েছেন, এ সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসটিএফ-এর সাইবার বিশেষজ্ঞেরা এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সাহায্য করছেন।

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ রকম ‘ওটিপি জালিয়াতি’ এবং ‘সিম বক্স’ চক্রের হদিস পেয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। মুর্শিদাবাদের ধৃত দুই যুবকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনও জঙ্গি সংগঠন বা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন