বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার কেস ডায়েরি হাতে পেল এনআইএ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বেলডাঙা অশান্তির ঘটনার কেস ডায়েরি হাতে পেয়েছে তারা। বিচার ভবনে এমনই জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। শুক্রবার সাত অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করিয়ে এনআইএ জানায়, আপাতত তাঁদের নিজেদের হেফাজতে রাখতে চায় না। কেস ডায়েরি দেখে প্রয়োজনে আবার হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। তার পরেই আদালত ওই সাত অভিযুক্তকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ থেকে অশান্তি ছড়ায়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরও করা হয়। সেই অশান্তির ঘটনায় প্রথমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে সেই ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। শুনানিতে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে।
আদালতের কথা মতো এনআইএ-র হাতে তদন্তভার হাতে যায়। তবে অভিযোগ, তদন্ত শুরু করলেও মামলার কেস ডায়েরি হাতে পায়নি এনআইএ। এই নিয়ে আদালতে বার বার প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্তদের আদালতে হাজিরা নিয়েও টানাপড়েন চলছিল। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না-থাকায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো যাচ্ছে না। তখন এনআইএর তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনে তাঁরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। টালবাহানার পর গত সপ্তাহে ৩১ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের মধ্যে থেকে সাত জনকে এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
ওই শুনানিতে জানা যায়, রাজ্য পুলিশ এনআইএ-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। শুক্রবার এনআইএ আদালতে জানায়, তারা কেস ডায়েরি হাতে পেয়েছে।