Saraswati Puja 2026

সরস্বতী পুজোয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে নজির স্কুলের

স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, সরস্বতী পুজোয় পাশের এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে মানুষের ভিড় জমে।

নীতেশ বর্মণ
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬
সরস্বতী পুজোয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলছে মুরালিগঞ্জ হাই স্কুলে। বুধবার।

সরস্বতী পুজোয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলছে মুরালিগঞ্জ হাই স্কুলে। বুধবার। নিজস্ব চিত্র।

দৃষ্টি সিংহ, সঙ্গীতা মাহাতদের সঙ্গে সরস্বতী পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত মাসুমা খাতুন, আফসানা নাসরিনেরা। এক সঙ্গে বসে আল্পনা আঁকা থেকে ফুলের মালা তৈরি, পুজোর বেলপাতা সংগ্রহের মতো নানা কাজ করছে তারা। স্কুলের সরস্বতী পুজোয় এমনই সম্প্রীতির নজির তৈরি করেছে শিলিগুড়ি মুরালিগঞ্জ হাই স্কুল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামসুল আলম বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের সরস্বতী পুজোয় সকলের সঙ্গে মৌলবিরাও উপস্থিত থাকবেন। তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ পুজোয় উপস্থিত থাকবেন। ধর্মের বিভেদ ভুলে সম্প্রীতির বার্তা দিতেইএমন আয়োজন।’’

একাদশ শ্রেণির দৃষ্টির বক্তব্য, ‘‘সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে স্কুলে নানা অনুষ্ঠান হবে। সেজন্য আগাম প্রস্তুতি ও মহড়া চলছে। আমরাতো সবাই এক সঙ্গেই ক্লাস করি। তা হলে এক সঙ্গে পুজোর আয়োজন হতে পারবে না কেন?’’ স্কুলের সপ্তম শ্রেণির আফসানার বক্তব্য, ‘‘এক সঙ্গে সবাই মিলে পুজোর আয়োজন করছি। এক বারও মনে হয়নি আমি অন্য সম্প্রদায়ের। কেউ-কেউ ভেদাভেদ করে দাগিয়ে দিয়ে ভাগ তৈরির চেষ্টা করেন। বাস্তবে এ সব কিছুই না।’’

স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, সরস্বতী পুজোয় পাশের এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে মানুষের ভিড় জমে। সেদিন দশ হাজার মানুষকে প্রসাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরস্বতী পুজোর পর দিন হবে পিঠে উৎসব। পড়ুয়ারা বাড়ি থেকে পিঠে তৈরি করে এনে স্কুলের স্টলে বিক্রি করবে। তার জন্য বেশকিছু স্টলও বসেছে। স্কুলের মাঠে প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্যোগী ভাবনা তুলে ধরতে পিঠে উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, প্রতিমা আসবে বিধাননগর থেকে। পুজোর উদ্বোধন করবেন এলাকার কয়েকজন সমাজসেবী।

মুরালিগঞ্জ হাই স্কুলের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ দিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। এক মৌলবির বক্তব্য, ‘‘এলাকার মানুষ একে অন্যের উৎসবে শামিল হন। আমরাও তাই সরস্বতী পুজোয় যাব। অঞ্জলির সময়ে উপস্থিত থাকব।’’ আর এক পুরোহিতের বক্তব্য, ‘‘সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে চলার নামই ধর্ম। আচার, আচরণ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু কোনওটায় কেউ বাধা যেন না দেয়। মুরালিগঞ্জে কোনও বিভেদ নেই।’’

এক অভিভাবক তপন সিংহের বক্তব্য, ‘‘স্কুলের সরস্বতী পুজো নিয়ে পড়ুয়াদের পাশাপাশি উৎসাহ রয়েছে এলাকার মানুষেরও। পুজোকে ঘিরে স্কুলের আয়োজন চোখে পড়ার মতো। তা ছাড়া এমন পুজো তো সম্প্রীতির মিলন মেলা। তাই এলাকার সকলের ভাল লাগে।’’

আরও পড়ুন