Mirik

মিরিকের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা, দাবি শঙ্করের

রাজ্য সরকারের বাজেটেও এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুভঙ্কর পাল
শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪৮
সৌন্দর্যায়নের অপেক্ষায় মিরিক লেক।

সৌন্দর্যায়নের অপেক্ষায় মিরিক লেক। ফাইল চিত্র।

দার্জিলিঙের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মিরিককে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিতে চলেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে মিরিকের পর্যটন পরিকাঠামোর আমূল উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মিরিক লেকের সৌন্দার্যায়ন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজ়ম, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। রবিবার শিলিগুড়িতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে বিস্তারিত প্রকল্প বিবরণ (ডিপিআর) জমা দিতে বলা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমার কথা হয়েছে। তিনি ডিপিআর দিতে বলেছেন। আমরা ডিপিআর প্রস্তুত করেছি। এর আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় না রেখে রাজ্যেরক্ষতি করেছে।’’

এ দিন মন্ত্রী আরও জানান, দার্জিলিংকে বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরতেও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি রাজ্যের একটি করে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থলকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য দার্জিলিংকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটক পরিষেবা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের বাজেটেও এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরিক নিয়ে পর্যটনমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত পর্যটন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, বর্তমানে মিরিক লেকের পাশাপাশি আশপাশের পাহাড়ি গ্রাম, মনোরম চা-বাগান এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারা বছরই হাজার-হাজার পর্যটক মিরিকে আসেন। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পর্যটন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দার্জিলিং এর পাশাপাশি মিরিকও উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। হিমালয়ান হসপিট্যালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাহাড়ের বিকল্প পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। মিরিক ও কালিম্পংয়ে পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলে পর্যটন-অর্থনীতি আরও মজবুত হবে।’’

আরও পড়ুন