—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক নেই। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ওই শূন্যপদ পূরণ করা হোক।
সম্প্রতি বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রায় ৫০ হাজার কলেজ, স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করেছেন। তাতে আশার আলো দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, ওই শূন্যপদগুলি পূরণ হলে গবেষণামূলক কাজ-সহ পঠনপাঠনে সুবিধা হবে।
২০১০ সালে সূচনার পর থেকে ধাপে ধাপে সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য-সহ কমবেশি ২০টি বিভাগ চালু হয়েছে। জেলার লোক সংস্কৃতির চর্চাতেও রয়েছে স্নাতকোত্তর কোর্স। তবে এই পাঠক্রমের অনেকগুলিতে স্থায়ী শিক্ষক নেই। তবে বিভিন্ন বিষয়ে প্রচুর পড়ুয়া রয়েছে।
তবে বেশ কয়েকটি বিভাগে কোনও স্থায়ী শিক্ষকই নেই। সূত্রের খবর, ২০২০ সালে এখানে চালু হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স। এই বিভাগে প্রতিটি সিমেস্টারে ৩০-৩৫ জন পড়ুয়া রয়েছেন। এখানেও বর্তমানে স্থায়ী শিক্ষক নেই। বিভাগ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন গণিতের দুই শিক্ষক। রয়েছেন দুই চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক। এছাড়াও আছেন একাধিক অতিথি শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কুড়মালি বিভাগেও একই অবস্থা। সেখানেও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অন্য বিভাগের শিক্ষক। রয়েছেন দু’জন চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক ও কয়েকজন অতিথি শিক্ষক। সম্প্রতি কুড়মালি বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও ওই বিষয়ে পিএইচডি চালুর দাবি জানিয়েছে আদিবাসী কুর্মি সমাজ।
একই অবস্থা বায়ো-টেকনোলজি, পরিবেশ বিজ্ঞান, জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স, পারফর্মিং আর্টস, ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগেরও। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ওই বিভাগগুলি প্রধান পদে রয়েছেন অন্য বিভাগের শিক্ষকেরা। পড়ানোর দায়িত্বে রয়েছেন চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক ও অতিথি শিক্ষকেরা। সূত্রের দাবি, স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় সেখানে গবেষণামূলক পঠনপাঠন বা পিএইচডি-সহ নানা কর্মসূচি থমকে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ-সহ বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় উচ্চশিক্ষাদফতরে জানানো হয়েছে। নতুন সরকারের কাছেও তা জানানো হবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, গুণমান বজায় রেখেই প্রতি বিষয়ে পঠনপাঠন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে।