Siliguri Protest

শিলিগুড়িতে ধুন্ধুমার! বিজেপি সমর্থিত জনজাতি মিছিলে লাঠিচার্জ পুলিশের, আহত বেশ কয়েক জন, আটক ১৬

গত সপ্তাহে ফাঁসিদেওয়ায় এক আদিবাসী অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মাঝপথে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২০
শিলিগুড়িতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের মিছিলে পুলিশের জলকামান। বৃহস্পতিবার।

শিলিগুড়িতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের মিছিলে পুলিশের জলকামান। বৃহস্পতিবার। —নিজস্ব চিত্র।

শিলিগুড়িতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হল পুলিশ। এর ফলে বেশ কয়েক জন জখম হয়েছেন। অন্তত ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়-সহ এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব।

Advertisement

গত সপ্তাহে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ফাঁসিদেওয়া এলাকায় জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। ওই দিন ফাঁসিদেওয়ায় এক আদিবাসী অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি সন্তানের জন্ম দিলেও সেই সন্তান মারা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দিয়েছিল। তাদের অভিযান সমর্থন করে বিজেপিও। জলপাই মোড় থেকে উত্তরকন্যার উদ্দেশে এই মিছিলে শিখা ছাড়াও ছিলেন ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। কিন্তু তিনবাত্তি মোড়েই পুলিশ মিছিল আটকে দেয়।

জাতীয় পতাকা নিয়ে শিলিগুড়িতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের মিছিল।

জাতীয় পতাকা নিয়ে শিলিগুড়িতে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের মিছিল। —নিজস্ব চিত্র।

মিছিল আটকানোর জন্য পুলিশ আগে থেকেই ব্যারিকেড করে প্রস্তুত ছিল। মজুত রাখা ছিল জলকামান। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। একটা সময়ে একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোচ্ছিল। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের থামাতে পুলিশ জলকামান ছোড়ে। ব্যবহার করা হয় কাঁদানে গ্যাস। এর পর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিতে রণক্ষেত্রের আকার নেয় শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়। তবে শেষপর্যন্ত পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করেছে। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

পুলিশের ব্যারিকেড ঘিরে বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তি।

পুলিশের ব্যারিকেড ঘিরে বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তি। —নিজস্ব চিত্র।

বিধায়ক শিখা পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ‘‘আদিবাসী জনজাতিদের নিয়ে আমাদের উত্তরকন্যা অভিযান চলছিল। পুলিশ তা আটকায়। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে। আমিও তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। সহকর্মীরা আমাদের নিরাপদ জায়গায় টেনে সরিয়ে দেন। এটা কোনও গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক।’’

এর আগে ফাঁসিদেওয়ায় ওই মহিলার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন খোদ সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি পুলিশকে ফোন করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছিলেন। তখনও বিতর্ক হয়। পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাংসদের বিরুদ্ধে। এ বার সেই ঘটনায় শিলিগুড়িতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল। সূত্রের খবর, বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। তাঁদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে বিক্ষোভকারীদের ১৬ জনকে আটক করেছে।

শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বৃহস্পতিবারের ঘটনার জন্য বিজেপিকে দুষেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ছোড়া হয়েছে। আদিবাসীদের জন্য আমাদের সরকার অনেক কাজ করেছে। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে এই কাণ্ড ঘটালো বিজেপি। যে জমি নিয়ে বিবাদ হয়েছে তার তদন্ত চলছে। ওরা ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি করছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন