—প্রতীকী চিত্র।
২০২২ সালের দার্জিলিং জেলার একটি থানায় রুজু হওয়া গণধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের জামিন খারিজ করল কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী এবং তাঁর আইনজীবীকে না জানিয়ে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, জামিন হওয়ার সময়ে সরকারি আইনজীবী একাধিক বিষয়ে আদালতকে অন্ধকারে রেখেছিলেন। যা পুরোপুরি অবৈধ বলে উল্লেখ করে জামিন বাতিল করে অভিযুক্তকে ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে সার্কিট বেঞ্চ। বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে বুধবার শুনানি হয়। তিনিই এই নির্দেশ দেন।
কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী অভ্রজ্যোতি দাস বলেন, ‘‘একাধিক তথ্য লোপাট করা হয়েছিল। আদালত জানতে চেয়েছিল সরকারপক্ষের কী মত। আমরা জানিয়েছি, এ ভাবে জামিন হওয়া ঠিক হয়নি। এর পরেই আদালত অভিযুক্তদের জামিন বাতিল করে।’’
২০১৯ সালের ১০ মার্চ দুই বান্ধবী ঘুরতে বার হয়েছিলেন। তখনই তাঁদের গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই মামলায় ২০২২ সালের ৯ নভেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ থেকে অভিযুক্তেরা অন্তবর্তীকালীন জামিন পায়। বর্তমানে ওই মামলা চলছে শিলিগুড়ির অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন্স জজ ফাস্ট কোর্টে (পকসো)।
আইন অনুযায়ী, এমন মামলায় জামিন দেওয়ার আগে অভিযোগকারী এবং তাঁর আইনজীবীকে নোটিস দিয়ে জামিনের আবেদনের বিষয়টি জানাতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। আদালতকে অন্ধকারে রেখে বেশ কিছু তথ্য লোপাট করে এই জামিন করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারিণীদের আইনজীবী। এর পরেই আদালত সরকারপক্ষের আইনজীবীর মতামত জানতে চান। তিনি মতামত দেওয়ার পরেই আদালত অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দ্রুত আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়।