পাহাড়ের পথে টয় ট্রেন। — নিজস্ব চিত্র।
স্বাবলম্বী হয়েছিল আগেই। এ বার ১৪৪তম বছরে আয়ের নজির গড়ল ‘খেলনা ট্রেন’!
আয়ের ক্ষেত্রে নজির গড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। জন্মের পর থেকে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি আয় করেছে টয় ট্রেন। এই সাফল্যে পর্যটনমহল, হোটেল ব্যবসায়ী এবং পাহাড়বাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের দার্জিলিং হিমালয়ান রেল কর্তৃপক্ষ। অতিমারির আগে পর্যন্ত পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে ভর্তুকি দেওয়া হত টয় ট্রেনে। নিত্য নতুন পরিষেবা, প্রাচীন ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন ও কামরাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় ডিএইচআর। আর তাতেই সমস্যার সমাধান বলে খবর।
টয় ট্রেনের প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছে ডিএইচআর। নতুন পরিষেবা, ইতিহাসের পাতা থেকে তুলে আনা অজানা সব তথ্য, প্রাচীন হেরিটেজ ইঞ্জিন ও কামরা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের জাদুঘরকে ঢেলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে এ বার বিয়ের মতো অনুষ্ঠান করার জন্য টয় ট্রেন ভাড়া দেওয়ার কথাও ভাবছেন কর্তৃপক্ষ৷ এতে স্থানীয় ও দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা আরও বেশি করে ভিড় জমাবে বলে আশা৷
রেল কর্তৃপক্ষ যখন এ সব পরিকল্পনা করছেন, তখন টয় ট্রেনের আয় দেখে বিস্মিত হতে হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই ‘খেলনা ট্রেন’ চালানোর জন্য ভর্তুকি দেওয়া হত। সেই পরিস্থিতি এখন অতীত। ২০২০ সাল থেকে আর তা লাগেনি। এ বার আয়ও বৃদ্ধি হল অনেকটাই।
২০২৪ সালের তুলনায় ডিএইচআর এবার ১৬ শতাংশ বেশি আয় করেছে, যা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের আয়ের ক্ষেত্রে সর্বকালীন নজির। ২০২৫ সালে ডিএইচআরের আয় হয়েছে ২৪.৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে আয় ছিল ২১.২ কোটি টাকা। পর্যটকের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১.৭৪ লক্ষ পর্যটক টয়ট্রেনে চেপেছেন। ২০২৫ সালে ২ লক্ষ ১০ হাজার পর্যটক তাতে চেপেছেন।
এই বিষয়ে দার্জিলিং হিমালয় রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, ‘‘২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে ডিএইচআরের আয় করেছে।’’ হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘‘করোনার পর থেকে রেল কর্তৃপক্ষ টয় ট্রেনকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় আনতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যার ফলে আজ আয় বেড়েছে। তবে টয় ট্রেনের মতো পরিষেবাকে আরও বেশি স্বাভাবিক রাখতে পাহাড়ের বেশি সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে।’’
প্রসঙ্গত, টয়ট্রেনের যাত্রাপথের একটা বিরাট অংশ মহানন্দা অভয়ারণ্যকে ঘিরে। সেই অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়েই এ বার ছুটবে পাহাড়ি ‘খেলনা ট্রেন।’ গত মাসেই শুরু হয়েছে নতুন পরিষেবা। শিলিগুড়ি থেকে গয়াবাড়ি পর্যন্ত সপ্তাহে দু’দিন মিলবে এই পরিষেবা।
ব্রিটিশ আমলে ১৮৭০ সালে প্রথম বার পরীক্ষামূলক ভাবে টয় ট্রেন চালানো হয়। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের পাহাড়কে টয় ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত করার জন্য ওই উদ্যোগের ন’বছর পর ১৮৭৯ থেকে বাণিজ্যিক ভাবে চালানোর জন্য কাজ শুরু হয়। তার পর আরও দু’বছর কেটে যায়। ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের উদ্দেশে গড়িয়েছিল প্রথম টয় ট্রেনের চাকা।