নর্দমার উপরে এ ভাবেই তৈরি হয়েছে অবৈধ নির্মাণ। শুরু হয়েছে তদন্ত। হাসিমারায়। নিজস্ব চিত্র ।
নর্দমার দখল করে প্রায় ১৮০টি অবৈধ নির্মাণ। হাসিমারার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের সমীক্ষায় উঠে এল এমনই তথ্য। শুক্রবার হাসিমারার নর্দমায় (ভোলা নালা) তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ভার্নাবাড়ি চা বাগানের এক শিশুকন্যার। যার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
শুক্রবার থেকে অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। হাসিমারা চৌপথি থেকে প্রায় দু কিলোমিটারেও বেশি দূরত্ব পর্যন্ত সমীক্ষা শেষে প্রায় ১৮০টি অবৈধ নির্মাণের খোঁজ মেলে। এই সমীক্ষা-রিপোর্ট পূর্ত দফতরকে দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে পূর্ত দফতর এ নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও প্রশাসন সূত্রে খবর। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, অবৈধ নির্মাণে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে বৈধ নথি দেখাতে বলা হবে। না পারলে, প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নেবে। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য রুদ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘দ্রুত নর্দমা পরিষ্কার করা হবে। যাতে অল্প বৃষ্টিতে তা ভরাট হয়ে শ্রমিক মহল্লায় জল না ঢোকে।’’
শুক্রবার হাসিমারায় ছ’ফুট গভীর একটা নালায় ভেসে যায় এক শিশুকন্যা। ঘণ্টা তিনেক পরে, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সাঁতালি চা বাগানে মেলে তার দেহ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই নালার একাংশ দখল করে সাঁতালি পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের কমলাদেবী প্রসাদের স্বামী রমেশ বাড়ি করেছেন। তাতেই সমস্যার শুরু। ঠিকঠাক জল বেরোনোর রাস্তা না থাকায় একটু বেশি বৃষ্টি হলে প্রবল স্রোত দেখা দেয় ওই ভোলা নালায়। এ দিন তাতেই ভেসে যায় শিশুটি। তার পরেই খেপে ওঠেন বাসিন্দারা। ভার্নাবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দা সুরজ ওঁরাও বলেন, ‘‘এর স্থায়ী সমাধান চাই আমরা। এর আগেও ভোলা নালায় অনেকের প্রাণ গিয়েছে। প্রশাসন এ বার ব্যবস্থা নিক।’’