US Italy Clash

‘আমার নয়, নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে ভাবুন’, ট্রাম্পকে মেলোনি, কেন ‘না’ বলেছিলেন মার্কিন বাহিনীকে? স্পষ্ট করলেন তা-ও

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বায়না করছিলেন মেলোনি। তাই না-চাইতেও তিনি রাজি হয়েছেন। ইটালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৮:৪২
ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ শীর্ষসম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সংঘাত বেড়েই চলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বায়না করছিলেন মেলোনি। তাই না-চাইতেও তিনি রাজি হয়েছেন। ইটালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা কমে গিয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। অভিযোগ, তা বাড়ানোর জন্যই ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি তোলার চেষ্টা। মেলোনি এর জবাব আগেও দিয়েছেন। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কারও কাছে কিছুর জন্য ভিক্ষা করেন না। এ বার ফের মুখ খুললেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যকে তিনি ‘বিনা প্ররোচনায় আক্রমণ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

Advertisement

মেলোনি সমাজমাধ্যমে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘‘ বিনা প্ররোচনায় অনবরত এই আক্রমণের কোনও অর্থ নেই। আপনার বন্ধু হয়ে জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে আমার কখনও কোনও লাভ হয়নি। আপনার সঙ্গে সম্পর্কের উপর আমার জনপ্রিয়তা নির্ভরও করে না। আমার জনপ্রিয়তা নির্ভর করে, ইটালির জাতীয় স্বার্থকে আমি কতটা সুরক্ষিত করতে পারছি, তার উপর। সেটাই আমি সবসময় করে এসেছি।’’

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত চলাকালীন হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইউরোপের একাধিক দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প। ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নেটো-র সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক দেশ তাতে রাজি হয়নি। ইটালি তার মধ্যে অন্যতম। বরং ট্রাম্পের ভূমিকারও সমালোচনাও করেছিলেন মেলোনি। তা নিয়ে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেলোনি তার জবাবে বলেন, ‘‘ইটালিতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটির বিষয়ে আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা-ও ইটালির জাতীয় স্বার্থের কথা ভেবেই। ওই ঘাঁটির ব্যবহার চুক্তিভিত্তিক, আমরা সেই চুক্তিকে সবসময় সম্মান জানিয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী থাকতে সেটা কখনও ভাঙতে দেব না। ইটালি সার্বভৌম দেশ ছিল, থাকবেও। তা ছাড়া, আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার না-ভাবলেও চলবে। আপনি বরং নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দিন।’’

বিতর্কের সূত্রপাত জি৭ শীর্ষসম্মেলন শেষ হওয়ার পর। ট্রাম্প ইটালির এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দাবি করেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য জোরাজুরি করেছিলেন। তাতে ট্রাম্পের ‘খারাপ’ লেগেছিল। তাই তিনি ছবি তুলতে রাজি হয়েছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমি ওঁর (মেলোনি) সঙ্গে কথা বলায় উনি খুব খুশি হয়েছেন। আমার কথা বলার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু উনি আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। আমি হয়তো ছবি তুলতাম না, কিন্তু আমার খারাপ লেগেছিল। তাই ছবি তুলেছি।’’ ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই মেলোনি মুখ খোলেন। দাবি, সম্পূর্ণ বানিয়ে বলছেন ট্রাম্প। মেলোনি লেখেন, ‘‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, বানানো। আমি স্তম্ভিত! জানি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নিজের বন্ধুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন! এটা প্রথম নয়।’’ ইটালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পশ্চিম বিশ্বের শত্রুদের সঙ্গে বা আমেরিকার শত্রুদের সঙ্গে ট্রাম্প এই দৃঢ়তা দেখান না, এটা লজ্জার। সেখানে তিনি অনেক বেশি নমনীয় আচরণ করেন। ওঁকে মনে রাখতে হবে— আমি বা ইটালি কখনও ভিক্ষা করি না।’’

এর পরেও থামেননি ট্রাম্প। তিনি ইটালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা নিয়ে তাঁকে খোঁচা দেন। সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘ইটালিতে ওঁর (মেলোনির) জনপ্রিয়তা ক্রমশ কমছে। আমেরিকা ইটালিকে ভালবাসে, নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বন্ধ করার বিষয়ে মেলোনি আমেরিকাকে কোনও সাহায্য করেননি (অবশ্য নেটোরও সেই একই ভূমিকা ছিল)। ইটালির ল্যান্ডিং স্ট্রিপ বা রানওয়েও আমাদের ব্যবহারের অনুমতি দেননি। অথচ ইটালি এবং অন্য নেটো দেশগুলোর সুরক্ষায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কোটি ডলার ব্যয় করে আমেরিকা। এখন উনি নিজের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য আবার বন্ধুত্ব করতে চাইছেন।” এর পরেই মেলোনি ফের মুখ খুললেন এবং ট্রাম্পকে নিজের জনপ্রিয়তার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিলেন।

ট্রাম্প-মেলোনি বাক্‌যুদ্ধে আমেরিকা এবং ইটালির সম্পর্কে শৈত্য বাড়ছে। ইতিমধ্যে ইটালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আমেরিকা সফর বাতিল করে দিয়েছেন। মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের ‘সম্পর্ক’ এক সময় আলোচিত ছিল। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীও প্রতিনিধি ছিলেন মেলোনি। পোপ লিও-র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন