Migrant Worker Death

আট দিন নিখোঁজ থাকার পর দেহ উদ্ধার! ভিন্‌রাজ্যে কাজে গিয়ে মালদহের পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু

মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম (২৯)। বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে। তবে রুটিরুজির টানে পাড়ি দিয়েছিলেন সদূর চেন্নাইয়ে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২২
Mystery surrounds death of migrant worker from Malda who went to work in Chennai

মৃত শ্রমিক আলমগীর আলম। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে শোরগোল চলছে। সেই আবহে এ বার চেন্নাইয়ে কাজে গিয়ে মৃত্যু হল মালদহের এক শ্রমিকের। আট দিন নিখোঁজ থাকার পর রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ! কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পরিবারের অভিযোগ, খুন করা হয়েছে তাঁকে।

Advertisement

মৃত শ্রমিকের নাম আলমগীর আলম (২৯)। বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ বাজারে। তবে রুটিরুজির টানে পাড়ি দিয়েছিলেন সদূর চেন্নাইয়ে। পরিবার সূত্রে খবর, দিন নয়েক আগে অন্য কাজও পান তিনি। যাওয়ার কথা ছিল হায়দরাবাদে। ট্রেনে ওঠার আগে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আলমগীর। কিন্তু তার পর থেকে আর তাঁর কোনও খোঁজ ছিল না। বার বার তাঁর মোবাইলে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ থাকার আট দিন পর আলমগীরের দেহ উদ্ধার হল। চেন্নাইয়ের যে স্টেশন থেকে হায়দরাবাদ যাওয়ার ট্রেনে ওঠার কথা ছিল, তার পরের স্টেশনে কাছে জঙ্গলের ধারে রেললাইনের পাশে পাওয়া যায় আলমগীরের ক্ষতবিক্ষত দেহ। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছোতে শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামে। পরিবারের দাবি, আলমগীরকে কেউ বা কারা খুন করে দেহ রেললাইনের ধারে ফেলে দিয়ে গিয়েছেন! প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা কেউ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি বলে অভিযোগ।

আলমগীরের পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে দুই সন্তান। সংসারে একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন আলমগীরই। তাঁর মৃত্যুতে অথৈ জলে পরিবার। ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় তাঁর স্ত্রী। অন্য দিকে, আলমগীরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল ব্লক আইএনটিটিউসি সভাপতি সাহেব দাসের দাবি, ‘‘১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে বিপাকে ফেলেছে বিজেপিই। যদি ১০০ দিনের কাজ চালু থাকত, তবে কাউকে রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র যেতে হত না। এ রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকেরা বিজেপিশাসিত রাজ্যে কাজে গেলে তাঁদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।’’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। জেলা বিজেপি সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ‘‘তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে কোনও কাজ নেই। বেকার যুবক-যুবতীরা তাই কাজের খোঁজে ভিন্‌রাজ্যে যাচ্ছেন। বিজেপিশাসিত রাজ্যে কাজ আছে, তাই সেখানে যাচ্ছেন।’’ আগমগীরকে কি খুন করা হয়েছে? বিজেপি নেতার দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে সে রাজ্যের পুলিশ।

গত ১৬ জানুয়ারি, ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হন বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখ। পরিবারের দাবি, তাঁকে খুন করা হয়। জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়ার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তা নিয়ে অশান্ত হয় বেলডাঙা। রেল, পথ অবরোধের মাধ্যমে শুরু হ‌ওয়া বিক্ষোভ হিংসার‌ রূপ নেয়। প্রহৃত হন একাধিক সাংবাদিক। তার পরেও অসম, তামিলনাড়ুতে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন