মালদহের কালিয়াচকের মেহেবুবুল আহমেদ। নিজস্ব চিত্র ।
বিশ্বমঞ্চে সোনা জয়ের স্বপ্নপূরণে বাধা যেন এক জোড়া জুতো। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মিললেও জুতোর দাম বাধা হয়ে উঠেছে মালদহের কালিয়াচকের কৃষক পরিবারের ছেলে মেহেবুবুল আহমেদের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মেহেবুবুলের খেলার স্বপ্নপূরণের জন্য ঋণ নেওয়া হলেও সে টাকা এখনও শোধ করা যায়নি। এ বার জুতো কেনার জন্য আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচের সামর্থ নেই বলেই দাবি পরিবারের।
এ বার বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ হতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। আগামী ৫ থেকে ৯ অগস্ট প্রতিযোগিতা চলবে। সে প্রতিযোগিতায় রিলে ১০০ মিটার দৌড়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার কথা কালিয়াচকের জালুয়াবাধাল গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কদমতলি গ্রামের বাসিন্দা মেহেবুবুল আহমেদের।
মেহেবুবুল কালিয়াচকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। বাবা কাফিউদ্দিন আহমেদ নিজের জমিতে চাষবাস করেন। সাধারণ পরিবারের মেহেবুবুলের স্বপ্ন ক্রীড়াবিদ হওয়া এবং দেশের জন্য সোনা জয় করা। অ্যাথলেট্রিক্সে জাতীয় স্তরের একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে সফলও মেহেবুবুল। মেহেবুবুলের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট মানের জুতো। কোচ অসিত পাল বলেন, ‘‘দৌড়ে জুতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক স্তরে দৌড়ের জন্য আধুনিক মানের জুতোর প্রয়োজন। তাতে খেলোয়াড়ের দৌড়তে সুবিধা হয়।’’ মেহেবুবুলের কথায়, ‘‘আমার পরিবার ঋণ করে আমায় জাতীয় স্তরে খেলতে পাঠিয়েছে। নতুন করে দামি জুতো কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ পরিবারের নেই।’’
মেহেবুবুলের বাবা কাফিউদ্দিন বলেন, ‘‘জুতোর জন্য ছেলের স্বপ্ন যাতে অধরা না থেকে যায়, তার জন্য চেষ্টা করছি।’’ মেহেবুবুলের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে মালদহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘‘অতীতে ব্যক্তিগত ভাবে অনেক ক্রীড়াবিদকেই সাহায্য করেছি। মেহেবুবুল আবেদন করলে নিশ্চয় তাঁর পাশেও থাকব।’’