আনন্দময় বর্মণ। নিজস্ব চিত্র।
রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ে পাল্টেছে তৃণমূল সরকার। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনে জয়ের ব্যবধান নজির গড়েছে। জয়ের ব্যবধান লক্ষাধিক ভোট বা তার কাছাকাছি রয়েছে অন্তত তিন জনের। ৭০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন অন্তত চার জন। ৫০, ৬০ হাজার ব্যবধানে জিতেছেন অনেকে। বিপুল ভোটে জয়ের পিছনে প্রার্থীদের পরিশ্রম, দলের প্রভাবের সঙ্গে সঙ্ঘ পরিবারের অবদান মানছেন বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা।
বিজেপি প্রার্থীদের মধ্যে রাজ্যে সর্বাধিক ভোটে জিতেছেন শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি আসনের আনন্দময় বর্মণ। তিনি জিতেছেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ২৬৫ ভোটে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় ৯৭ হাজার ৭১৫ ভোটে, মালদহের ইংরেজবাজারে ৯৩ হাজার ৭৮৪ ভোটে জিতেছেন অম্লান ভাদুড়ি।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সংগঠন রয়েছে। যেমন হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, সীমা জাগরণ মঞ্চ, ন্যাশনাল মেডিক্যাল অর্গানাইজেশন, সামাজিক সমরসতা, একল বিদ্যালয়, বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের মতো প্রায় ৪৬ টি সংগঠন। বিভিন্ন স্তরে তারা কাজ করেছে।
গত ১০ বছরে উত্তরবঙ্গে তাদের সমাজিক, জনসংযোগ কার্যক্রম ওই সমস্ত এলাকায় উত্তরোত্তর বেড়েছে। আখেরে তার ফল পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। তা মানেন সঙ্ঘের অনেকেই। আরএসএস-এর উত্তরবঙ্গ প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ সমীর কুমার ঘোষের কথায়, ‘‘সারা বছর ধরেই সমস্ত আনুসঙ্গিক সংগঠনগুলোর কাজে উৎসাহ দেওয়া হয়। এক দশকে উত্তরবঙ্গে আমাদের কাজকর্ম অনেক বেড়েছে।’’
আনন্দময় বলেন, ‘‘আরএসএস-এর আনুষঙ্গিক যে সমস্ত সংগঠন রয়েছে তারা কাজ করছে। একল বিদ্যালয় রয়েছে। লক্ষাধিক ভোটে জেতার পিছনে এ সবের অবদান অবশ্যই রয়েছে।’’
শিলিগুড়ি বিধানসভা এলাকায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, বিশ্বহিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মতো সংগঠন সক্রিয়। শিলিগুড়ি আসন থেকে শঙ্কর ঘোষ জিতেছেন ৭৩ হাজার ১৯২ ভোটে। মালদহের হবিবপুর থেকে ৭৮ হাজার ১৮৮ ভোটে জিতেছেন জুয়েল মুর্মু। সেখানেও আরএসএস-এর আনুষঙ্গিক সংগঠন দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয়। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থেকে উৎপল ব্রহ্মচারী জিতেছেন ৭৬ হাজার ৪২৫ ভোটে। কোচবিহার উত্তর আসনে বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায়ের জয়ের ব্যবধান ৭০ হাজার ৩৮৪ ভোট। উৎপল ব্রহ্মচারীর কথায়, ‘‘হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে এই সমস্ত সংগঠনের কাজ অবশ্যই গুরুত্ব পেয়েছে।’’
রাজবংশী, মতুয়া, নমঃশূদ্রের ভোট এক করতেও ভোটের আগে বিভিন্ন সভা, প্রচার থেকে তাদের জন্য বার্তা দিয়েছেন বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কোচবিহার উত্তরের মতো আসনে তা প্রভাব ফেলেছে বলে দলের একাংশের মত।
সমাজমাধ্যমে প্রচারের বিষয়টি এক সময় পিছিয়ে থাকলেও এখন তা নয়। শিলিগু়ড়ি থেকেই প্রথম সমাজ মাধ্যমে ‘অ্যাকাউন্ট’ তৈরি হয় বছর আটেক আগে। বিশ্বসংবাদ কেন্দ্র উত্তরবঙ্গ আহ্বান নামে। পরে আরও দুটো তৈরি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ আহ্বান এবং মধ্যবঙ্গ আহ্বান নামে। তার গুরুত্বও রয়েছে।