বরফের চাদরে ঢেকেছে সিকিম। ছবি: সংগৃহীত।
অনবরত তুষারপাত হচ্ছে উত্তর এবং পূর্ব সিকিমে। ইতিমধ্যে লাচেন থেকে থাঙ্গু এবং থাঙ্গু থেকে গুরুদোংমার যাওয়ার রাস্তা বন্ধ। এর মাঝেই সতর্কতা ঘোষণা করল হাওয়া অফিস। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিকিম জুড়ে তুষারধস হতে পারে। এই মর্মে পূর্বাভাস দিয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করল ‘ডিফেন্স জিওইনফরমেটিক রিসার্চ এস্টাব্লিশমেন্ট’ (ডিআরডিও)। যার পরেই তৎপর হয়েছে সিকিম প্রশাসন।
পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাতের পূর্বাভাস, ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ এবং দুর্গম অঞ্চলে অভিযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা ডিআরডিও-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, শনিবার বিকেলের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘ভয়ঙ্কর’ তুষারধসের কবলে পড়তে পারে সিকিম। ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছাঙ্গু ও নাথু লা সংলগ্ন এলাকাগুলোয়। ওই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে সিকিম প্রশাসনের কাছেও। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত কয়েক দিন ধরে নাগাড়ে তুষারপাত চলছে উত্তর থেকে পূর্ব সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায়। দফায় দফায় তুষারপাতে বরফের চাদরে মুড়েছে সিকিম। সামরিক বাহিনী দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। তার মধ্যেই তুষারধসের সম্ভাবনার বিজ্ঞপ্তি আতঙ্কের সঞ্চার করছে। ইতিমধ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি তৎপর হয়েছে বিভিন্ন দফতর। তৎপর সেনাও। এই মুহূর্তে বিশাল সংখ্যক পর্যটক রয়েছেন সিকিমের বিভিন্ন এলাকায়। সিকিম সরকার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, যে যেখানে রয়েছেন, সেখানেই যেন থাকেন। যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
উল্লেখ্য, উমথাং থেকে জ়িরো পয়েন্টের রাস্তা তুষারপাতের কারণে অচল হয়ে পড়েছে। চুংথাং থেকে লাচুং এবং মঙ্গন যাওয়ার একাধিক রাস্তা খোলা থাকলেও হালকা যানবাহন ছাড়া বড় গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সিকিম আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর ডক্টর গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে তুষারপাত জারি থাকবে। সান্দাকফু-সহ সিকিমে তুষারপাত চলবে। বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় ও সমতলে সমানতালে বৃষ্টি হবে। রবিবার থেকে পরিস্থিতি খানিকটা স্বাভাবিক হবে।’’
অন্য দিকে, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। তার পর আকাশ পরিষ্কার হবে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের চার জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।