TMC Councillor Arrest

‘কাটমানি ফেরত চাইতেই গুন্ডা দিয়ে মার’! মালের তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ

অভিযোগকারীর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার। কিন্তু আবাস যোজনার টাকাও পাননি এবং সেই সুবিধা নেওয়ার জন্য তাঁকে যে অর্থ দিতে হয়েছিল, সেটাও ফেরত দেওয়া হয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১২:৪৭
Mal Municipality

মাল পুরসভার অন্দরেও শোরগোল শুরু হয়েছে। —নিজস্ব চিত্র।

দুর্নীতির অভিযোগে জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি চলছে। কোথাও জনতার রোষে পড়ছেন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি। কোথাও বিক্ষোভ-আক্রমণ এড়াতে তোলাবাজি করে নেওয়া টাকা তৃণমূল নেতারা ডেকে ডেকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু জলপাইগুড়ির মাল পুরসভায় ঘটল অন্য ঘটনা। সেখানে তোলার টাকা ফেরত চেয়ে কাউন্সিলর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের হাতে প্রহৃত হওয়ার অভিযোগ তুলল একটি পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

অভিযোগকারী বিপুল বর্মণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তাঁদের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছিলেন মাল পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অজয় লোহার। কিন্তু আবাস যোজনার টাকাও পাননি এবং সেই সুবিধা নেওয়ার জন্য তাঁকে যে অর্থ দিতে হয়েছিল, সেটাও ফেরত পাননি। সম্প্রতি বিপুল এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা বর্মণ টাকা ফেরত চেয়ে আবার এক বার কাউন্সিলর অজয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। অগত্যা মালবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দম্পতি।

অভিযোগ, সেই কথা জানার পর থেকে দম্পতির উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল কাউন্সিলরের তরফে। তাতেও থানায় গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কাউন্সিলর অজয় এবং তাঁর ভাই আনন্দ লোহার। প্রীতিলতার অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় তাঁকে আক্রমণ করা হয়। মালবাজারের চৌপতি এলাকায় বিপুলকে কাউন্সিলরের লোকেরাই মেরেছেন বলে দাবি বধূর। বর্তমানে মালবাজার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বিপুলের। তাঁর স্ত্রী আবার মালবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারই ভিত্তিতে কাউন্সিলর অজয়, তাঁর ভাই আনন্দ, মালবাজারের তৃণমূল টাউন ব্লক সভাপতি-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, কাটমানি নেওয়া, থানা থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ এবং হামলার মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যাসত্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন