ধারে সিগারেট না-পেয়ে দোকানে তাণ্ডবে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা! —নিজস্ব ছবি।
সিগারেট নেবেন। তবে টাকা পরে দেবেন। সওদায় রাজি হন দোকানি। সেই কারণে তাঁর দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। অভিযুক্ত নেতাকে শো কজ় করেছে তাঁর দল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম পার্থসারথি মুখোপাধ্যায়। দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির যুব তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক তিনি। ধারে সিগারেট না-পেয়ে এলাকার একটি দোকানে ভাঙচুর চালান বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মণ। তার পর রাজনৈতিক চাপানউতর আরও তীব্র হয়। মঙ্গলবার ওই দোকানদারের বাড়িতে যান শাসক-বিরোধী, দুই দলের প্রতিনিধিরা। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, কেন এমন ঘটনা ঘটল, ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে নেতার কাছে।
যে দোকানে ভাঙচুর হয়েছে, সেটি নকশালবাড়ির বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়। দোকানমালিক তপন পালের অভিযোগ, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১টায় তাঁর দোকানের সামনে একটি গাড়ি দাঁড়ায়। গাড়ি থেকে নেমে সিগারেট বাকিতে চান ওই তৃণমূল নেতা। কিন্তু টাকা পরে দেবেন বলে জানান। তিনি রাজি না-হওয়ায় রেগেমেগে তাঁর দোকানে ঢুকে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভাঙচুর চালান পার্থ। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন ছিলেন, সকলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিজেপি কর্মীদের নিয়ে তপনের বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক আনন্দ। তিনি বলেন, ‘‘গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছি। দোষীদের যেন শাস্তি হয়।’’ দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল ওই দোকানদারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আইন আইনের পথে চলবে। আইন সকলের জন্য সমান।’’
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা একসময়ে নকশালবাড়ির তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
শাসকদলের তরফে দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় বলেন, ‘‘আমরা কোনও ভাবেই এমন ঘটনা বরদাস্ত করব না। এমন খবর পাওয়ার পরেই অভিযুক্তকে শো কজ় করেছি।’’