—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
বাড়বে মজুরি, দুর্নীতি রুখতে থাকবে একাধিক ব্যবস্থাও। বুধবার এমনই পদক্ষেপের কথা জানিয়ে শুরু হল বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)। সংক্ষেপে, ‘ভিবি জি রাম জি’ প্রকল্প।
২০০৫ সালের ‘মহাত্মা গাঁধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্পে'র পরিবর্তে কার্যকর হল নতুন প্রকল্প। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, একশো দিনের কাজে জব কার্ড উপভোক্তারা ওই কাজ পাবেন। নতুন করেও কাজের সুযোগ থাকবে। একশো দিনের কাজের তুলনায় নতুন প্রকল্পে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দক্ষতার ভিত্তিতে ৬০০, ৪৫০ ও ৩০০ টাকা করা হয়েছে। জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সন্দীপ কুমার ঘোষ বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে সমস্ত বিষয় বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ
করা রয়েছে।”
আলিপুরদুয়ার জেলার ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে 'ভিবি জি রাম জি' প্রকল্পে ২২টি কাজ শুরু হয়েছে। শিলিগুড়িতে পাঁচটি জায়গায় নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তার মধ্যে পুকুর খনন, বাঁধ মেরামতির মতো কাজ রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও ওই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। জেলাশাসক বিবেক কুমার জানিয়েছেন, ১২৫টি ক্ষেত্রে ওই প্রকল্পে শ্রমিকেরা কাজ পাবেন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, একশো দিনের প্রকল্পে যাঁরা এতদিন কাজ করেছেন বা অন্যরাও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে আবেদন করে নতুন ওই প্রকল্পে কাজ পেতে পারেন। দক্ষিণ দিনাজপুরে আজ, বৃহস্পতিবার থেকে কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। মালদহে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জেলায় ৭ লক্ষ ২২ হাজার ৯২১ জন পুরনো জব কার্ড উপভোক্তা রয়েছেন। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে পরিবারপিছু ৫০ দিন করে জব কার্ড উপভোক্তারা কাজ পেয়েছিলেন। শ্রম দিবস তৈরি হয়েছে দুই কোটিরও বেশি।
একশো দিনের কাজে একটি বড় অভিযোগ ছিল দুর্নীতির। ভুয়ো জব কার্ডে টাকা তোলার অভিযোগও ছিল। তার জেরে ২০২২ সাল থেকে ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সে সব কথা মাথায় রেখে কাজ শুরুর সময়ে এবং শেষে ‘বায়োমেট্রিক’ পদ্ধতিতে উপস্থিতি দিলে তবেই উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘ফেস স্ক্যান’-এর মাধ্যমেও শ্রমিকদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হবে। কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় বলেন, ‘‘তৃণমূলের ব্যাপক দুর্নীতির জেরে দীর্ঘসময় ধরে কাজ পাননি সাধারণ মানুষ। এ বার দুর্নীতির কোনও জায়গা থাকবে না।’’