—প্রতীকী চিত্র।
কারখানায় অস্থায়ী চাকরির জন্য তৃণমূলের শ্রমিক-নেতাকে টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি। টাকাও ফেরত মেলেনি। তার জেরে, কীটনাশক পান করে এক যুবক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠল হলদিয়ায়। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কাশীশ্বর মাইতি নামে ওই আইএনটিটিইউসি নেতাকে ধরেছে পুলিশ। কাশীশ্বরের পরিবারের দাবি, মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
মৃত অভিজিৎ দাসের (৩৩) বাড়ি হলদিয়ার রাজারচকে। পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে তমলুকে চিকিৎসাধীন অভিজিতের মৃত্যু হয়। গত ১ জুলাই বাড়িতেই অসুস্থ হন তিনি। তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়ার সময়ের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়ায়। সেখানে তিনি বলছিলেন, “কাশীশ্বর মাইতিকে চাকরির জন্য সাড়ে আট লক্ষ টাকা দিই। বার বার টাকা ফেরত চাইলেও, দেননি। আরও সময় চাইছিলেন।”
অভিজিতের বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা, মা, স্ত্রী ও শিশুসন্তান রয়েছেন। শুক্রবার রাতে ছেলের মৃত্যুর পরে, অভিজিতের বাবা কাশীশ্বরের বিরুদ্ধে হলদিয়া থানায় অভিযোগ জানান। আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও আর্থিক প্রতারণার ধারায় মামলা রুজু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি, হলদিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধন সংস্থায় মেনটেনেন্স বিভাগে ওই যুবককে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাশীশ্বর।
হলদিয়ায় প্রাক্তন পুরপ্রধান তৃণমূলের দেবপ্রসাদ মণ্ডলের একদা ঘনিষ্ঠ কাশীশ্বরকে ব্রজনাথচকের বাড়ি থেকে শুক্রবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তখন স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান নেতার পরিজনেরা। পরে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার হলদিয়া মহকুমা কোর্টে ধৃতের চার দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়। তদন্তকারীরা জানান, এই চক্রে আর কারা জড়িত, দেখা হবে।
কাশীশ্বরের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কারণে অভিযোগ হয়েছে। আইনি মোকাবিলা করা হবে। হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপকুমার বিজলি বলেন, “এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ হচ্ছে।” ২০২২ সালে চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণায় গ্রেফতার হন হলদিয়ার প্রাক্তন পুর-প্রতিনিধি প্রশান্ত দাস। আইএনটিটিইউসি-র একাধিক জেলা সভাপতিও পরে গ্রেফতার হন।