নিলম্বিত তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে জায়গা পেলেন বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিধানসভা থেকে প্রকাশিত বুলেটিনে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তির কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর তিন মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার পরিষদীয় কাজে যুক্ত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা ও পরিষদীয় মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেফতারের সময় তিনি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ও পরিষদীয়মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারির পরই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দল থেকেও নিলম্বিত করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। পরবর্তী সময়ে সিবিআই মামলাতেও গ্রেফতার হন পার্থ। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। বর্তমানে পার্থ নিজের নাকতলার বাসভবনে রয়েছেন। মুক্তির পরেই পার্থ প্রকাশ্যে জানান, তিনি বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দিয়ে বক্তৃতা করতে চান। সেই ইচ্ছার কথা জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও দেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে বিধানসভায় উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।
এর মধ্যেই বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন বিধানসভার বিভিন্ন কমিটিতে পার্থকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, তাঁকে বিধানসভার গ্রন্থাগার কমিটি, অবাসন ও অগ্নিনির্বাপণ জরুরি পরিষেবা কমিটি এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী, কোনও মন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতাকে কোনও স্থায়ী সমিতি বা বিধানসভার কমিটির সদস্য করা যায় না। ২০০১ সালে প্রথম বার বিধায়ক হওয়ার পর পার্থ একাধিক কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০০৬ সালে বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর এবং ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ দিন মন্ত্রিসভার সদস্য থাকার কারণে তিনি আর কোনও কমিটির সদস্য হননি। বর্তমানে তিনি কোনও মন্ত্রিত্বে না থাকায় আবার বিধানসভার কমিটিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটল।